চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের এবার ফাঁসির সাজা শুনলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন সংসদ সদস্য মহম্মদ সাইফুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার আরও ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় সাতজনকে হত্যা ও মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁদের এই সাজা শোনানো হয়েছে।
এদিন দুপুরে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২'এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারপতির প্যানেল মোট ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আটজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে প্যানেলে ছিলেন বিচারক মহম্মদ মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এটি ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ঘোষিত প্রথম রায় হিসেবে বিচার বিভাগে এক ঐতিহাসিক নজির হিসেবে বলা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং তাঁদের উপস্থিতিতেই সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেন বিচারক নুর মহম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি, প্রাক্তন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহম্মদ শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল। অপরদিকে পলাতক থাকা আটজন আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মহম্মদ আসাদুজ্জামান রিপন এবং আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি-সহ আরও কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে সাতজন প্রাণ হারান, যাঁদের মৃতদেহ পরবর্তীতে ভ্যানে স্তূপ করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালীন উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, এধরনের নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই আইনের মূল লক্ষ্য। এই রায়ের মাধ্যমে শহিদদের পরিবার এবং জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে নিহতের স্বজনরা।
