একদিকে কট্টরপন্থী জামাত, অন্যদিকে বিএনপি-আওয়ামি' জোট'। ভেটের মুখে বুঝি এই দিকেই বাঁক নিচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি। মঙ্গললার মাদারিপুরের শিবচরে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থনে 'জয় বাংলা', 'জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান তুলে ভোট চাইলেন আওয়ামি লিগের ২০ জন নেতাকর্মী। মৌলবাদীদের রুখতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক 'শত্রু'র পাশে দাঁড়াচ্ছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল।
মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগ। হাসিনার দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী হয় দেশছাড়া, নয় তো দেশের মধ্যেই গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। এমনই পলাতক ২০ জন আওয়ামি নেতা-কর্মী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জরো হন শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে অনুষ্ঠিত একটি 'উঠান বৈঠকে'। তাঁরা দাবি করেন, সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরি লিটনের নির্দেশে ধানের শীষের (বিএনপির প্রতীক) প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সমর্থন জানাচ্ছেন। আওয়ামি লীগের এমন প্রচারকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতা-কর্মীদের একাংশ বলছেন, মাদারিপুর-১ আসনটি আওয়ামি লিগের গড়। জেলার বর্তমান ও প্রাক্তন অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি আওয়ামির প্রাক্তন চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরি লিটনের অনুসারী। লিটনের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর থেকে আওয়ামির পলাতক নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে উঠান বৈঠকগুলোতে হাজির হয়ে বিএনপি প্রার্থীর জন্য প্রচার চালাচ্ছেন।
রাজনৈতিক অঙ্ক বলছে, বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর তুলনায় ভোটের ময়দানে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন। নেপথ্যে আওয়ামির গড়ে আওয়ামি নেতাকর্মীদের সমর্থন। এই সমর্থনের বিষয়টি দুই দলের শীর্ষনেতাদের সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়। অতএব, স্পষ্ট যে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, তত কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে বিএনপির পাশে দাঁড়াচ্ছে আওয়ামি লিগ। দুই 'শত্রু'র বন্ধুত্বে কি ইউনুস বধ সম্ভব? উত্তর দেবে সময়।
