মাথার উপরে ফাঁসির খাঁড়া। তা উপেক্ষা করেই স্বদেশে ফেরার কথা ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই উজ্জীবীত আওয়ামি লিগ কর্মী, সমর্থকরা। ইউনুস আমলে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও গোপনে দেশের নানা স্থানে তাঁরা হাসিনার সমর্থনে মিছিল, সভা করছে। আর পুলিশের নজরে পড়লে অবধারিতভাবে গ্রেপ্তার হচ্ছে লিগের নেতা-কর্মীরা। ফের তেমনই ঘটল চট্টগ্রামে। অভিযোগ, শুক্রবার অস্ত্র-সহ সেখানে মিছিল করে আওয়ামি লিগ। স্লোগান তোলা হয় - ‘শেখের বেটি আয়তাছে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’। অস্ত্র থাকায় লিগের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ২৭ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শোলকাটা এলাকায় বাঁশখালী-চট্টগ্রাম সড়কে 'নিষিদ্ধ' ছাত্রলিগ, যুবলিগ, আওয়ামি লিগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এবং সেখান থেকে নানা স্লোগান ওঠে - ‘শেখের বেটি আয়তাছে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘কোন নেত্রী আছে, সেই নেত্রী শেখ হাসিনা’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ মানি না, মানব না’ এবং ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’।
শুক্রবার চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানায় মহম্মদ হাসান নামে এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন এই মর্মে যে গত ২৭ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শোলকাটা এলাকায় বাঁশখালী-চট্টগ্রাম সড়কে 'নিষিদ্ধ' ছাত্রলিগ, যুবলিগ, আওয়ামি লিগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এবং সেখান থেকে নানা স্লোগান ওঠে - ‘শেখের বেটি আয়তাছে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘কোন নেত্রী আছে, সেই নেত্রী শেখ হাসিনা’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ মানি না, মানব না’ এবং ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’।
মামলায় ৭৮ জনকে আসামি হিসেবে দাবি করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের নামও যুক্ত হয়েছে এই মামলায়। তাতে বলা হয়েছে, মিছিলে ‘শেখের বেটি আয়তাছে’ লেখা ব্যানার ছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে অস্ত্র দেখে জনতা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং মিছিলের জেরে রাস্তায় যানবাহন চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলিগের প্রাক্তন সহ-সভাপতি মহম্মদ মিজানুর রহমানকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে মামলাকারী মহম্মদ হাসান আরও উল্লেখ করেন, মিছিলের খবর পেয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের সবাইকে শনাক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবারের মিছিলের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এই মামলায় আবদুর রহিম ও সাইমন নামের দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশি অভিযান চলছে।
