বদলের বাংলাদেশে ধর্মাচরণের সমালোচনা করে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। আর তাতেই ইসলাম অবমাননার অভিযোগে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে চাকরি খোয়ালেন বাংলাদেশের এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক। তাঁদের বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। আর তারপরই বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ধর্মীয় বিষয়টি নিয়ে অশান্তি হতে পারে, এই আশঙ্কায় আপাতত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও বহিষ্কৃত অধ্যাপকদের দাবি, তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে স্রেফ পড়ুয়াদের বিক্ষোভের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতিস্বীকার করেছে।
দুই অধ্যাপককে বহিষ্কারের নোটিস কর্তৃপক্ষের।
গন্ডগোলের সূত্রপাত গত ডিসেম্বরে। নিজের ফেসবুক পোস্টে পর্দাপ্রথা সংস্কৃতির সমালোচনা করেছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকের সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগে অধ্যাপক লায়েকা বশির। তাঁকে সমর্থন করেন সহকর্মী ড. এ এস এম মহসিন। ওই পোস্টটি দ্রুত সোশাল মিডিয়ার পাতায় পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। তাতেই স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে। বশিরের পোস্টে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল পডুয়া বিক্ষোভ শুরু করে। এমনকী সেমিস্টার পরীক্ষায় না বসে তাঁরা বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। পড়ুয়ারা প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষকরা এভাবে ইসলাম বিরোধিতা ছড়ালে তাঁদের শিক্ষার কী হাল হবে? ইসলামবিদ্বেষ ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও তোলা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। ঘটনা পরম্পরার জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কিন্তু পড়ুয়া বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় তদন্ত কমিটি কাজ শেষের আগেই দুই অধ্যাপককে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপক লায়েকা বশির ও এ এস এম মহসিনের পালটা দাবি, 'মবে'র চাপে কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত না করেই তাঁদের বিরুদ্ধে এত বড় সিদ্ধান্ত নিল। দেশের শিক্ষক মহলের একটা বড় অংশ অবশ্য সমালোচনায় মুখর। এটি প্রশাসনের 'স্বেচ্ছাচার' ও 'ভয়ংকর নজির' বলে মনে করছেন তাঁরা। এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এহেন ঘটনায় এভাবে বাংলাদেশে বর্তমান ইউনুস প্রশাসনের এবার গর্জে উঠছে শিক্ষক সমাজও।
