সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নারীর অধিকার হরণ, তাঁকে নির্যাতন মৌলবাদী চরিত্র। সেই চরিত্রই এবার ধরা পড়ল ইউনুসের বাংলাদেশে। সেখানে শীতের সকালে এক মহিলাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে, তার গায়ের বালতির পর বালতি জল ঢেলে পৈশাচিক উল্লাস করল একদল কট্টরপন্থী। খোদ রাজধানী ঢাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। মহিলা যত বেশি কষ্ট পাচ্ছিলেন, তত চওড়া হচ্ছিল নির্যাতনকারীদের মুখের হাসি। এই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নিন্দায় সরব হয়েছে নেটিজেনরা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ২ জানুয়ারির, গুলশানের নদ্দা এলাকার মোড়ল বাজারের। চুরির অভিযোগ এনে ওই মহিলাকে খুঁটিতে বেঁধে জল ঢেলে নির্যাতন করা হয়। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় আসরে নামে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ভিডিও দেখেই পাঁচজনকে শনাক্ত করে। যদিও নির্যাতিতাকে এলাকার কেউ চিনতে পারেননি। ওই মহিলা এলাকার নন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা মাদ্রাসার দুই হুজুর লোকমান ও একরাম এবং তিন শিক্ষার্থী। ওই মাদ্রাসার লোকজনের বক্তব্য, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ছটা থেকে সাতটার মধ্যে মাদ্রাসার দুই শিশুশিক্ষার্থী দেখতে পায়, ওই মহিলা মাদ্রাসার এক শিক্ষকের কক্ষে তাঁর হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিচ্ছেন। শিশুশিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে পাশের কক্ষ থেকে শিক্ষক একরাম এবং আরেক শিক্ষক বেরিয়ে আসেন। মহিলাকে আটক করেন। মহিলাকে নাকি তাঁরা পুলিশে দিতেই চেয়েছিলেন। কিন্তু এত সকালে ‘পুলিশ কোথায় পাবেন’ তা চিন্তা করে নিজেরাই ‘শাস্তি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শাস্তির প্রক্রিয়া হিসেবে মহিলাকে বেঁধে গায়ে জল ঢেলে অত্যাচার চালানো হয়।
মহিলাকে নির্যাতনের ভিডিও দেখে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান অনেকে। তাঁরা ভিডিওটি শেয়ার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তিরদাবি জানিয়েছেন। তাদের একজন সমাজকর্মী ফেরদৌস আরা রুমি ভিডিওটি শেয়ার প্রশ্ন তুলেছেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায়?" এটাই হয়তো আজকের বাংলাদেশের সবচয়ে বড় প্রশ্ন। যেখানে মৌলবাদীরা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।
