সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পথকুকুর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থানে হতাশ অভিনেতা সোনু সুদ (Sonu Sood)। তাঁর আর্জি, 'আমরা কি একটু মানবিক হতে পারি না? সব জায়গা থেকে পথকুকুরদের বিতাড়নের ঘটনায় রীতিমতো চিন্তিত তিনি। সঠিক সময়ে টীকাকরণ ও নির্বীজকরণের মাধ্যমে পথকুকুরদের সুস্থ রাখা সম্ভব বলেও জানান তিনি।
বুধবার, পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আগের অবস্থানই বহাল রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত আগেই জানিয়েছিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, খেলার মাঠের মতো জায়গাগুলি একেবারে পথকুকুরমুক্ত করতে হবে সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে যে এলাকা থেকে পথকুকুরদের শেল্টারে পাঠানো হবে, ওই এলাকায় আর ফেরানো যাবে না। যা নিয়ে গোটা দেশেই সরব হয়েছেন পশুপ্রেমীরা। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বলে, কুকুরের মন বোঝা মানুষের পক্ষে কখনই সম্ভব নয়, কখন প্রাণীটি কামড়াবে কিংবা কামড়াবে না! অতএব, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো। শুধু কামড়ানো নয়, পথকুকুরের কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে। এই আবহে পথকুকুরদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ করার আর্জি জানালেন অভিনেতা সোনু সুদ।
অতীতের সেই করোনাকাল থেকে সাম্প্রতিক অতীত, সোনুকে দেখা গিয়েছে বারবার মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সমাজের কথা ভাবতে। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। তবে এবার মানুষের পাশাপাশি ভারতের পথকুকুরদের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন দিতে উদ্যত হলেন তিনি। পশুকল্যাণ সংস্থার সমর্থনে এই নিয়ে মুখ খোলেন সোনু। তিনি বলেন, "যেমন আমি একজন ভারতীয়। তেমনই কিন্তু এদেশের প্রতিটি পথকুকুরও ভারতীয়। সেই জন্য তাদের দেশি বলে দাকা হয়। আমি সকলকে একটাই অনুরোধ করব যে, আমরা যেমন করোনার সময় নিজেদের সুস্থ করে তুলতে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিলাম সেভাবেই আসুন না আমরা আমাদের চারপাশের পথকুকুরদেরও সমস্ত প্রয়োজনীয় টিকাকরণ ও নির্বীজকরণ করাই। এতে ওরাও সুস্থ থাকবে আর আমাদের চারপাশ।"
এই উদ্যোগে জনসাধারণকে এই বিষয় সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন সোনু। পথকুকুররাও যে এই সমাজেরই অংশ, তাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে সেকথাও একভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। করোনাকালে পরিযায়ী শ্রমিকের পাশে দাঁড়ানোই হোক বা যে কোনও পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এককথায় সাহায্যের হাত বড়িয়ে দিয়েছেন সোনু। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এবার সেই তালিকায় পথকুকুররা।
