shono
Advertisement

Breaking News

Chiranjeet Chakraborty

দু'টি ওয়ার্ডের উন্নয়নে বরাদ্দ প্রায় ২ কোটি! চিরঞ্জিতের বিধায়ক তহবিলের হিসেব প্রকাশ্যে আসতেই তুঙ্গে চর্চা

বিষয়টি বারাসত পুরসভার বাকি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরা জানার পর থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 08:57 PM Feb 09, 2026Updated: 08:58 PM Feb 09, 2026

বিগত তিন বছরের বিধায়ক তহবিলের অর্থ খরচ হয়নি! যা নিয়ে বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আর শুরু হতেই দুটি ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ হল প্রায় দু'কোটি। তাও আবার কিনা একদিনেই। বারাসতের তিনবারের তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর এহেন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিত কাউন্সিলররা। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, আগে বিধায়করা নিজের নির্বাচিত এলাকার উন্নয়ন খাতে ৬০ লক্ষ টাকা প্রতি বছরে পেতেন। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ থেকে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ বেড়ে হয় ৭০ লক্ষ টাকা প্রতি বছর। নাগরিক পরিষেবা বা উন্নয়নের কাজে সাধারণত প্রতি বুথে সমান ভাগে এই অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে। বারাসত বিধানসভা এলাকায় বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর উন্নয়ন তহবিলের অর্থ থেকে ১কোটি ৯৮লক্ষ ৩৫হাজার ১৪২ টাকা খরচের একটি খবর সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। বারাসত পুরসভার ১ নম্বর ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই টাকা খরচ হবে বলেই সূত্রের খবর।

এর মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সিঁথির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ৭৯৭টাকা। বাকি ১কোটি ৯০লক্ষ ৬০হাজার ৩৪৫টাকা বরাদ্দ হয়েছে ২৫নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কেএনসি রোডের আনন্দময়ী থেকে হাটখোলা মোড় পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড বৈদ্যুতিক তার বিছানোর জন্য। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে এই খরচ করা হবে বলেই খবর। বিধায়ক খাতের এই অর্থ গত ৩ ফেব্রুয়ারি বরাদ্দ হয়েছে বলেই জেলা প্রশাসনের সূত্রে খবর।

এর মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সিঁথির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ৭৯৭টাকা। বাকি ১কোটি ৯০লক্ষ ৬০হাজার ৩৪৫টাকা বরাদ্দ হয়েছে ২৫নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কেএনসি রোডের আনন্দময়ী থেকে হাটখোলা মোড় পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড বৈদ্যুতিক তার বিছানোর জন্য। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে এই খরচ করা হবে বলেই খবর।

বিষয়টি বারাসত পুরসভার বাকি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরা জানার পর থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরাসরি না বললেও প্রত্যেক কাউন্সিলের এনিয়ে একই বক্তব্য, ৩৫টি ওয়ার্ডে এই টাকা সমান ভাগে ভাগ করে দিলে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ লক্ষের কিছু বেশি টাকা করে উন্নয়নের কাজ করা যেত। এনিয়ে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর চৈতালি ভট্টাচার্য বলেন, "জনপ্রতিনিধি হিসাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের জন্য টাকা দেওয়া উচিত। আমাদের ওয়ার্ডের মানুষও তো ভোট দিয়েছেন। তারপরেও কেন উন্নয়নের জন্য আমাদের ওয়ার্ড উন্নয়ন খাতে বিধায়ক তহবিলের টাকা পাবে না?" ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রঞ্জিত দাস বলেন, "শেষ বার ২১সালের আগে বিধায়ক তহবিলের থেকে অর্থ পেয়েছিলাম। তারপর আর পাইনি।" একই বক্তব্য শোনা গিয়েছে ২৬নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলর অভিজিৎ নাগ চৌধুরীর বক্তব্যেও।

তিনি বলেন, "২১ সালের পর থেকে আমাদের ওয়ার্ড টাকা পাইনি। ভেবেছিল এবার হয়ত পাবো। কিন্তু শুনলাম এবারও পেলাম না।" একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে বিধায়ক খাতের প্রতি বছরের টাকা সেই বছরই খরচ করা হল না কেন? উল্লেখ্য, বছরের ৭০ লক্ষ টাকা করে পেলেও বিধায়কেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সুপারিশ করে নিজ এলাকায় উন্নয়নের জন্য বাড়তি টাকাও নিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে বিগত ১৫ বছর ধরে জেলা সদর বারাসতের বিধায়ক থাকা অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী কতটা উদ্যোগী হয়েছেন তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে অনেকে।

যদিও এনিয়ে চিরঞ্জিতের বক্তব্য, "তিন কন্যা নামে একটি কালচারাল সেন্টার করার ইচ্ছা ছিল। সেই কারণে এই পরিমাণ টাকা এক জায়গায় করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সব টাকা যোগাড় করা যায়নি। ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে এস্টিমেট তৈরি করতে গেলে সময় লাগত। তাই শেষ মুহূর্তে বারাসতবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলের কাজে টাকা বরাদ্দ করেছি।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement