মদের টাকা না পেয়ে মাকে খুনের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে। বাবাকেও এলোপাথাড়ি কোপায় গুণধর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর মধুপুরে। ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তও আহত হওয়ায় বর্তমানে সে হাসপাতালে ভর্তি। ছাড়া পেলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের নিমদহ পঞ্চায়েতের মধুপুর এলাকার বাসিন্দা কিসমত শেখ। স্ত্রী নূরজাহান বিবি, ছেলে, বউমা ও নাতিদের নিয়ে তার ভরপুর সংসার। ওই দম্পতির বড় ছেলে হাসিবুল শেখ প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে অশান্তি করত বলে অভিযোগ। এই মদ্যপানের কারণেই যুবককে ছেড়ে যান তাঁর স্ত্রী। কিন্তু তাতেও স্বভাব বদলায়নি। বরং প্রায়দিনই সে মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে অশান্তি করত। কাজকর্ম করত না। সোমবার বিকালেও হাসিবুলের সঙ্গে তার মা নূরজাহানের বচসা হয় বলে অভিযোগ। এরপরেই গুণধর ছেলে বঁটি দিয়ে তার মা-কে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। তা দেখেই বাবা কিসমত শেখ লাঠি নিয়ে ছুটে যায়। ছেলেকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করে। তখন বাবাকেও কোপায় গুণধর। রক্তে ভেসে যায় বাড়ি।
স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে ঘাতককে আটকাতে গেলে তাদেরকেও বঁটি নিয়ে তাড়া করতে থাকে। কোনওক্রমে স্থানীয়রা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নূরজাহানকে মৃত বলে জানায়। অভিযুক্তের এক ভাই বাগবুল শেখ জানান, “বড় ভাই হাসিবুল শেখ মায়ের কাছে প্রতিনিয়ত মদ খাওয়ার জন্য টাকা চাইত। কোনও কাজ করত না। এই নিয়ে প্রায়ই অশান্তি হত। এদিন বাড়িতে কেউ ছিল না। সেইসময় মদ খাওয়ার জন্য টাকা চেয়ে না পাওয়ায় মা ও বাবাকে বঁটি দিয়ে বড় ভাই কোপায়। মায়ের মৃত্যু হয়। বাবার অবস্থাও ভালো নয়।” পরিবারের অন্য সদস্যরা জানায়, ঘটনার আগে মা নূরজাহান ছেলেকে ভাত খাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। অন্যদিকে হাসিবুল তার মায়ের সাথে অশান্তি করতে থাকে। এমনই এক অবস্থায় সে বাবা ও মা-কে ধারালো অস্ত্রের কোপ মারে। মদ খাওয়ার টাকা চেয়ে না পাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের অনুমান।
