স্বামী-স্ত্রী দু'জনের বয়সের ফারাক প্রায় ৪৫। তাই স্ত্রী যখন সন্তান প্রসব করেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৩। আর তাঁর স্বামী ৫৮। ফলে শিশুর দু'বছর বয়স না হতেই ওই স্ত্রী কোলের সন্তানকে ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। তাই ৬০ বছরের বৃদ্ধ বাবার কাছে কোনওভাবে বড় হচ্ছিল ছেলে। পুরুলিয়ার কাশিপুর ব্লকের খাপলারি গ্রামের ঘটনায় গত ২৯ জানুয়ারি বাবা মারা যাওয়ায় ৫ বছরের ওই সন্তানকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েছিল তার সত্তরোর্ধ জ্যেঠু। কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তাই যোগাযোগ করেছিলেন পুরুলিয়ার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সঙ্গে। সেই কমিটির তত্ত্বাবধানে ওই পাঁচ বছরের শিশুর আয়ুষ্মান নামে ঠিকানা হল সরকারি হোম।
রবিবার ওই শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার পর কাশিপুর থানার পুলিশের মাধ্যমে ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির তত্ত্বাবধানে পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে বেলগুমায় আনন্দমঠের শা হোমে আশ্রয় পায় মা-বাবা হারানো ওই শিশু। বিধি অনুযায়ী এই ধরনের শিশু বা বালক-বালিকার নাম সামনে আনা যায় না। আনা যায় না। আনা যায় না তাদের বাবা-মা, আত্মীয়ের নাম। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন দীপঙ্কর সরকার বলেন, " এই ঘটনার কথা শুনে আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের ফারাক ছিল ৪০ বছরেরও বেশি। কোলের ছেলেকে মা ফেলে চলে যাওয়ায় প্রায় তিন বছর ধরে বৃদ্ধ বাবার কাছে মানুষ হচ্ছিল ওই শিশুটি। কিন্তু বাবাও মারা যায়। তাই জেঠুরা আর তাকে বড় করে তুলতে পারছিলেন না। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ওর শিশুর ঠিকানা হয় হোম। ওই শিশুটির আমরা নামকরণ করেছি আয়ুষ্মান।
ওই হোম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই শিশুটি যাতে সুন্দর জীবন পেতে পারে তার সবরকম ব্যবস্থা করা হবে। তবে এদিন ওই ৫ বছরের শিশুকে কোল থেকে ছাড়তে চোখে জল চলে এসেছিল তার জেঠুর। কিন্তু তিনি যে নিরুপায় ছিলেন। ছেলেটিকে মানুষ করার মত যে তাদের অর্থ নেই। তবে হোমে এসে নতুন পরিবেশে প্রথম দিনই দিব্যি মানিয়ে নিয়েছে আয়ুষ্মান।’’
