বিয়ের শর্ত হিসেবে স্বামীর থেকে ২ কাঠা জমি লিখিয়ে নিলেছিলেন মহিলা। বিয়ে হতেই সেই জমি ফেরতের জন্য বধূর উপর নাকি চাপ দিতে শুরু করেছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। যার পরিণতি হল ভয়ংকর। অভিযোগ, জমি নিয়ে অশান্তির কারণেই স্ত্রীকে পিটিয়ে খুন করেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবল শোরগোল ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে।
জানা গিয়েছে, মৃতার নাম পারভিনা খাতুন। মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির ফরিদপুরের বাসিন্দা তিনি। ডোমকলের বাসিন্দা হবি মণ্ডলের তৃতীয় স্ত্রী ওই তরুণী। তাঁর এটি দ্বিতীয় বিবাহ। মৃতার পরিবার সূত্রে খবর, বছর দুয়েক আগে পারভিনা খাতুনকে তৃতীয়বার বিয়ে করেন হবি। বিয়ের শর্ত হিসেবে পারভিনার নামে দু’কাঠা জমি লিখে দেন। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সেই জমি ফেরত নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। জমি ফেরত দিতে অস্বীকার করায় পারভিনার উপর অত্যাচার শুরু হয়।
অভিযোগ, সেই অশান্তির জেরেই নাকি রবিবার বেধড়ক মারধর করা হয় পারভিনাকে। যার জেরে মৃত্যু হয় বধূর। মৃতার বউদি রোজিনা বিবির কথায়, “বিয়ের পর থেকেই জমি ফেরত চাওয়া হচ্ছিল। না দেওয়ায় ওর উপর অত্যাচার চলত।” মৃতার দাদা বাপী মণ্ডল বলেন, “ফোনে বোন আমাদের অত্যাচারের কথা জানিয়েছিল। ইদের পর বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার কথা ভাবছিলাম। তার আগেই এই ঘটনা ঘটে গেল।” অভিযুক্ত হবি মণ্ডলের দাবি, তাঁর মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে ইয়ামিন মণ্ডল হঠাৎ কাঠের বরগা দিয়ে আঘাত করায় পারভিনার মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এপ্রসঙ্গে ঘোড়ামার পঞ্চায়েতের প্রধান প্রতিনিধি সৌরভ হোসেন বলেন, অভিযুক্ত যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন এবং এর আগেও একাধিকবার আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে। তাঁর কথায়, “ছেলেটি আগেও পরিবারের সদস্যদের মারধর করেছে। ঠিকমতো চিকিৎসা করা হয়নি। কখনও স্বাভাবিক থাকে, আবার কখনও অস্বাভাবিক আচরণ করে। ঘটনার সময় পারভিনা খাতুন নামাজ পড়ে দোয়া করছিলেন। সেই সময় আচমকা হামলা চালানো হয়। গ্রামের মানুষই পরে অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।”
