ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচনের মাস খানেক আগে গোটা রাজ্যজুড়ে ঝোড়ো প্রচারে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচারের সূচনা করার কথা। তবে একই সময়ে দক্ষিণবঙ্গেও প্রচারে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর দক্ষিণবঙ্গে প্রচার শুরুর জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন অনুব্রত-গড় বীরভূমকেই। আগামী ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার বীরভূমে প্রচার করতে যাওয়ার কথা তাঁর। ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বিশাল জনসভা তৃণমূল সুপ্রিমোর। আর তাঁর এই সভা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কুণ্ডলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কোটাসুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠ এবং ঢেকা গ্রাম পঞ্চায়েতের লোকপাড়া কলেজ মাঠ - এই দুটি জায়গাকে প্রাথমিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই জনসভা আয়োজনের উপযুক্ত পরিবেশ, জনসমাগমের সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাতায়াতের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগে ময়ূরেশ্বরের কোটাসুর ফুটবল মাঠ পরিদর্শন পুলিশ প্রশাসনের। ছবি: সুশান্ত পাল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার স্থান নির্ধারণ করতে রবিবার রামপুরহাট মহকুমা পুলিশের নির্দেশে ময়ূরেশ্বর ২ ব্লকের দুটি সম্ভাব্য মাঠ পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কুণ্ডলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কোটাসুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠ এবং ঢেকা গ্রাম পঞ্চায়েতের লোকপাড়া কলেজ মাঠ - এই দুটি জায়গাকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই জনসভা আয়োজনের উপযুক্ত পরিবেশ, জনসমাগমের সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাতায়াতের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোন মাঠে চূড়ান্তভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সভা অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে রবিবার বোলপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে জেলা কোর কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকেই সভাস্থল নির্বাচন-সহ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সভায় উপস্থিত থাকতে পারেন জেলার শীর্ষ নেতৃত্বরাও। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দাবি, কুণ্ডলা অঞ্চলের কোটাসুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠই প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই মাঠটি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অনেকটা উন্নত।ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাঠটির পরিকাঠামো, মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা বলয়, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, সবকিছু মাথায় রেখে প্রশাসন এই মাঠেই জনসভা আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই জনসভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি ময়ূরেশ্বর বিধানসভার তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ রায় পুরো দিকটি খতিয়ে দেখছেন। নির্বাচনের আগে এই সভা ময়ূরেশ্বর-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে অনেকের অনুমান। এখন কোর কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।
