ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে আসছি, বেশি জল খেলে শরীর ভালো থাকে। কথাটা পুরোপুরি ভুল না হলেও, জলপানের একটা সীমা আছে। সেই সীমা পেরিয়ে গেলে উপকারের বদলে উলটে ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জলপান শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
বেশি জলপান মানেই সুস্থ শরীর নয়
সব মানুষের শরীর একরকম নয়। তাই জলপানের প্রয়োজনও সবার ক্ষেত্রে আলাদা। কেউ কম জলেই সুস্থ-স্বাভাবিক থাকতে পারেন, আবার কারও একটু বেশি দরকার হয়। কিডনি নিজেই ঠিক করে কতটা জল রাখবে আর কতটা বের করে দেবে। কিন্তু যখন অতিরিক্ত জল একসঙ্গে বা অযথা বেশি পরিমাণে পান করা হয়, তখন এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়।
ছবি: সংগৃহীত
ওয়াটার ইনটক্সিকেশন কী?
অতিরিক্ত জলপানের ফলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যায়, যাকে বলে হাইপোন্যাট্রেমিয়া। এর ফলে শরীরের কোষে জল ঢুকে ফুলে ওঠে, যা মস্তিষ্কের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক। প্রথমে বমিভাব, মাথাব্যথা, অস্বস্তি বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া- এমনকি প্রাণঘাতী অবস্থাও তৈরি হতে পারে। যদিও এই ঘটনা খুব সাধারণ নয়, তবুও ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কিডনির উপরেই নির্ভর করছে সবকিছু
আমাদের শরীর কতটা জল সামলাতে পারবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে কিডনির কার্যক্ষমতার ওপর। সুস্থ কিডনি অতিরিক্ত জল বের করে দিতে পারে, কিন্তু কিডনির সমস্যা থাকলে সেই ক্ষমতা কমে যায়। তাই যাঁদের কিডনির অসুখ রয়েছে, তাঁদের জলপানের পরিমাণ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।
‘ডিটক্স’ ধারণার ফাঁদ
অনেকেই ভাবেন, বেশি জল খেলে শরীর থেকে সব বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়। এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। শরীরের নিজস্ব ডিটক্স সিস্টেম আছে- লিভার ও কিডনি সেই কাজ করে। অতিরিক্ত জলপানে সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা যায় না, বরং উলটে চাপ তৈরি হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
সুস্থ মানুষও ঝুঁকিতে
শুধু অসুস্থদের ক্ষেত্রেই নয়, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত জলপান সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অল্প সময়ের ব্য়বধানে অনেকটা জলপান বা দিনে ৭–৮ লিটার বা তার বেশি জলপানের অভ্যেস থাকলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
তাহলে কতটা জল যথেষ্ট?
সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে প্রায় ২–৩ লিটার তরল গ্রহণই যথেষ্ট। এর মধ্যে খাবার থেকেও কিছুটা জল পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নিয়ম- তেষ্টা পেলে জলপান করুন। শরীরচর্চা, আবহাওয়া এবং আপনার শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে জলপানের পরিমাণ ঠিক করুন।
জল সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু অকারণে বেশি নয়- সঠিক পরিমাণটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের সংকেত বুঝে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
