তৃণমূল কংগ্রেস করলে কোনও সার্টিফিকেট, সুবিধা দেওয়া হবে না। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে এভাবেই হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির জেলা পরিষদের সদস্য অরূপ জানা। শাসকদলের সমর্থকদের বুঝে নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। শনিবার নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া অঞ্চলে নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় প্রকাশ্যে এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেন অরূপ। এই নিয়ে নন্দীগ্রামে তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কীভাবে তিনি সরকারি পরিষেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিতে পারেন? ভোটের আগে এভাবে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ হবে না। এবার নন্দীগ্রাম বিধানসভায় শুভেন্দুর হার নিশ্চিত জেনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
পথসভা থেকে অরূপ জানা বলেন, "বিরুলিয়া অঞ্চল বিজেপির দখলে। তৃণমূল যাঁরা করছে তাঁদের অঞ্চলে আসতে হবে। তাঁদের আমরা বুঝে নেব। যাঁরা তৃণমূল করে তাঁদের অঞ্চলে কোনও সুযোগ, কোনও সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। ভোটের পরে আমরা সব হিসাব নেব।" অপরদিকে বিজেপি নেতা প্রলয় পালও সভামঞ্চ থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। অরূপের এই মন্তব্য নিয়ে নন্দীগ্রামজুড়ে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এরকম কথা বলা যায় কি না তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এই নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের দাবি, গণতন্ত্রের হত্যা হচ্ছে। নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপিকে উৎখাত করতে হবে। বিরুলিয়া অঞ্চল কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আগামী দিনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল ক্ষমতায় আসবে। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, মানুষকে সরকারি পরিষেবা দিতেই হবে। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে অরূপ জানা এরকম মন্তব্য করতে পারেন না। বাংলা ভাষাকে যাঁরা অসম্মান করেন, বাংলার মানুষকে যাঁরা অসম্মান করেন তাঁদের মানুষ কখনই ভরসা করে না। ভোটবাক্সে তাঁরা এর জবাব পাবেন।
