২২ আসনের মধ্যে ২০টিতে জয়। ২০২১ সালে বঙ্গে তৃণমূলের বিরাট সাফল্যে নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদের। যে মুর্শিদাবাদ একটা সময় পরিচিত ছিল কংগ্রেসের গড় হিসাবে। সে গড়ের 'শেষ প্রহরী' অধীর চৌধুরীকেও ২০২৪ লোকসভায় হারিয়েছে তৃণমূল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই অধীরের কর্মভূমি বহরমপুরে দাঁড়িয়ে ফের তাঁকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, এই অধীর চৌধুরী আসলে বিজেপির ডামি প্রার্থী। শনিবার বহরমপুরের রোড শো থেকে শুরুতেই অধীরকে হারানোর জন্য মুর্শিদাবাদবাসীকে, বহরমপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানান অভিষেক। তিনি বলেন, "প্রথমেই বহরমপুরবাসীকে ধন্যবাদ। ২০২৪ সালে বিজেপির ডামি প্রার্থীকে এখান থেকে হারানোর জন্য। তাঁকে প্রাক্তন করে দেওয়ার জন্য।" অধীর যে বিজেপির এজেন্ট সেটা প্রমাণ হিসাবে অভিষেকের যুক্তি, কোথাও কোনও মঞ্চ থেকে কোনওভাবেই বিজেপিকে আক্রমণ করেন না তিনি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলছেন, "দু'বেলা সাংবাদিক বৈঠক করে শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি করছেন। আজ গরম লাগলে, বৃষ্টি পড়লে সেটার জন্যও মমতাকে দায়ী করেন।"
একা অধীর নন, সার্বিকভাবে কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেছেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেছেন, শুধু বিজেপি শাসিত রাজ্যে নয়। কংগ্রেস শাসিত কর্নাটক, তেলেঙ্গানাতেও আক্রান্ত হতে হচ্ছে বাঙালিদের। অথচ এই নিয়ে সরকারের সাহায্য চাইলে তারা সাহায্যও করেনি। আসলে ২০২১ বিধানসভায় শূন্য হয়ে গেলেও মালদহ ও মুর্শিদাবাদে এখনও প্রভাবশালী শক্তি কংগ্রেস। মৌসম নূরের যোগদানের পর হাত শিবির মালদহ ও মুর্শিদাবাদ দুই জেলাতেই চাঙ্গা। সংখ্যালঘু ভোট যদি কংগ্রেসে ফেরে তাহলে ভোট কাটাকাটির অঙ্কে আখেরে লাভ হবে বিজেপিরই। সে অঙ্ক জানেন অভিষেকও। সেকারণেই তিনি অধীরকে বিজেপির এজেন্ট প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করলেন।
অবশ্য আরও একজনকে এদিন কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন অভিষেক। তিনি হুমায়ুন কবীর। অভিষেকের অভিযোগ, "মুর্শিদাবাদের ওই নয়া গদ্দার, বিজেপির নতুন এজেন্ট। শীঘ্রই তাঁর আসল স্বরূপ মানুষের সামনে আসবে।" তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, বেনডাঙার হিংসার নেপথ্যে উসকানি দিচ্ছেন হুমায়ুনই।" সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে পারেন, এমন দুই নেতাকেই তিনি জুড়ে দিলেন বিজেপির সঙ্গে।
