জনবিক্ষোভে দিন দুই ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক খুন, তাঁদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে রেল, রাস্তা অবরোধ, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্মমভাবে প্রহারের শিকার মহিলা সাংবাদিক। হাত, পায়ে আঘাত নিয়ে আপাতত তিনি ভর্তি হাসপাতালে। এই ঘটনায় এবার ময়দানে নেমে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় শনিবার চারজনকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন, মূল অভিযুক্ত হিসেবে মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে-ই দু'দিন ধরে জনতাকে উত্তেজিত করেছিল। মহিলা সাংবাদিকের উপর হামলার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে এসপি-র পরামর্শ, ''সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। আমরা কাজের জন্য আপনাদের উপর নির্ভর করি। কিন্তু একটা বিনীত অনুরোধ, উত্তপ্ত কোনও পরিস্থিতিতে কাজ করতে গেলে একটু সাবধানে আসুন। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে কাজ করুন।''
মহিলা সাংবাদিকের উপর হামলার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে এসপি-র পরামর্শ, ''সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। আমরা কাজের জন্য আপনাদের উপর নির্ভর করি। কিন্তু একটা বিনীত অনুরোধ, উত্তপ্ত কোনও পরিস্থিতিতে কাজ করতে গেলে একটু সাবধানে আসুন। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে কাজ করুন।''
গত দু'দিন ধরে উত্তপ্ত বেলডাঙার পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশবাহিনী সাধ্যমতো কাজ করে গিয়েছে। জনরোষ সামলানোর পাশাপাশি অশান্তিতে উসকানি দিচ্ছে কারা, তাও কড়া নজরদারির মাধ্যমে চিহ্নিতকরণের কাজ চলেছে। তাতেই চিহ্নিত হয়েছে মতিউর রহমান। এসপি এদিন সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন।
এসপি কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, ''আমরা গতকাল (শুক্রবার) থেকে বেলডাঙা গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। সাধারণ জনগণ এমনিতে শান্ত, তাঁরা অযথা কোনও উসকানিতে পা দেননি। কিন্তু আজ (শনিবার) সকাল থেকে রাস্তা-রেল অবরোধ, সংঘর্ষ শুরু হয়। জনতা বিক্ষুব্ধ ছিল। আমাদের বাহিনীর উপস্থিতিতেই পাথর ছোড়াছুড়ি হয়। রাস্তায় টায়ার জ্বালানো হয়েছে, একটা বাসেও ভাঙচুর হয়েছে। তারপর আমরা বিভিন্ন এরিয়া ডমিনেশন করলাম। তাতে আধঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি একেবারে নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। আমরা অকুস্থল থেকে চিহ্নিত করে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। সংখ্যাটা মোট ৩০। এদের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা মামলা হবে।''
এরপরই তিনি সাংবাদিক নিগ্রহ নিয়ে মুখ খোলেন। কার্যত সাংবাদিকদের কার্যপদ্ধতি নিয়ে পাঠ দিলেন এসপি কুমার সানি রাজ। এসপির কথায়, ''খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গিয়েছে গতকাল (শুক্রবার)। আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। কিন্তু যখন কোথাও কোনও অশান্ত পরিস্থিতি থাকবে, সেখানে কাজ করতে যাওয়ার আগে একটু সাবধান হোন, নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে কাজ করুন। আমরা কিন্তু ওইদিন দুই সাংবাদিককে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম। আমাদের আইসি, ওসিরা সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই সাংবাদিককে মারধর করা হল।''
