shono
Advertisement
Abhishek Banerjee

সোনারপুরে প্রবল জনবিক্ষোভ, জামা ছিঁড়ে মার অভিষেককে, মাথায় পরপর ডিম, উঠল 'চোর' স্লোগান

অভিষেকের সারা গা ডিমে মাখামাখি হয়ে যায়! তাঁর মন্তব্য, 'এটাই ডবল ইঞ্জিন মডেল, আমার মাথা ফেটে যেত হেলমেট না থাকলে।'
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 04:48 PM May 30, 2026Updated: 07:29 PM May 30, 2026

সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীকে দেখতে যাওয়ার পথে প্রবল বিক্ষোভের মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার কামালগাজির কাছে তাঁকে মহিলারা কালো পতাকা দেখান। এরপর সোনারপুর ঢুকতেই অভিষেককে ডিম ছোড়া হয়, ওঠে 'চোর' স্লোগান। অভিষেকের পোশাকে অপরিষ্কার হয়ে যায় ছোড়া ডিমে। তিনি গাড়ি থেকে নেমে একটি বাইকে চড়ে গন্তব্যে যেতে চাইলে সেখানেও প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। মাথায় হেলমেট থাকায় ডিম এসে পড়ে তাঁর মাথায়। শুধু তাই নয়, জামা ছিঁড়ে মারধর করা হয় অভিষেককে। সেই ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল। যদিও এত বাধা অতিক্রম করেও দলীয় কর্মীর বাড়িতে অভিষেক পৌঁছে যান। 

Advertisement

অভিষেকের উপর ডিম-হামলার প্রস্তুতি মহিলাদের

সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সেই বাড়িতে বসেই অভিষেক জানান, ‘‘এই হল ডবল ইঞ্জিনের নমুূনা। সবাই চেয়েছিল, ডবল ইঞ্জিন হোক। ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরবে। আমার মাথাটা বেঁচে গেল শুধু হেলমেট ছিল বলে। পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইল। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই পারি।কিন্তু এই পরিবারের উপর হামলা হবে তারপর। আমি এখন এঁদের ছেড়ে যেতে পারব না। বাহিনী পাঠিয়ে  আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।''

শনিবার বিকেলে সোনারপুরের কামরাবাঁধ যাওয়ার পরে প্রথমে কামালগাজির কাছে বাধার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে মহিলারা কালো পতাকা দেখান। সেসব পেরিয়ে সোনারপুর ঢুকতেই জনতা রীতিমতো বিক্ষোভ বিস্ফোরণের আকারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে 'চোর' স্লোগান ওঠে। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হতে থাকে। জামাকাপড় নোংরা হয়ে যায় তাঁর। ছোড়া হয় জুতো, ঢিল, কাদা। জামা খুলে চলে মারধরও। মাথায় হেলমেট পরে কোনওক্রমে রক্ষা পান তিনি। তবে অভিষেক চশমা, ঘড়ি ভেঙে গিয়েছে। 

হেলমেট থাকায় মাথা বেঁচে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিষেক।

সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সেই বাড়িতে বসেই অভিষেক জানান, ‘‘এই হল ডবল ইঞ্জিনের নমুূনা। সবাই চেয়েছিল, ডবল ইঞ্জিন হোক। ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরবে। আমার মাথাটা বেঁচে গেল শুধু হেলমেট ছিল বলে। পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইল। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই পারি।কিন্তু এই পরিবারের উপর হামলা হবে তারপর। আমি এখন এঁদের ছেড়ে যেতে পারব না। বাহিনী পাঠিয়ে  আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।আমি এই ঘটনা নিয়ে হাই কোর্টেও যাব, সুপ্রিম কোর্টেও যাব।''

সোনারপুরের কামরাবাঁধে নিহত সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে অভিষেক। ছবি: বিশ্বজিৎ নস্কর

সূত্রের খবর, ওই পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন অভিষেক।পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপেক্ষায়। শোনা যাচ্ছে, সোনারপুরে অভিষেকের উপর এত বড় হামলার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূলনেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এনিয়ে দলের অন্যতম মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য,  ‘‘এটা প্রতিবাদ দেখানোর কোনও অংশ হতে পারে না। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নিহত কর্মীর বাড়িতে যাচ্ছেন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে, সেখানে তাঁকে এভাবে বিক্ষোভ দেখানো হবে! রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে, তাঁরা শান্তি স্থাপনের কথা বলছেন। এটাই কি তার নমুনা?'' 

কামরাবাঁধে ঢুকতেই ঘেরাও অভিষেক। ছবি: বিশ্বজিৎ নস্কর

অভিষেকের উপর এই হামলা নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এসবের মধ্যে বিজেপি নেই। এধরনের ঘটনা সুস্থ, স্বাভাবিক,গণতান্ত্রিক পরিবেশে হয় না। আজ বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই তৃণমূলের নেতারা অক্ষত রয়েছেন। ওরা যে পরিমাণ অত্যাচার মানুষের উপর করেছে, আমাদের জেলা সভাপতি, আমাদের দলের কর্মীদের উপর করেছে, তারপর আমরা ছিলাম বলেই ওদের বিধায়ক-সাংসদরা এখনও এই অবস্থায় আছেন। অন্য কোনও দল থাকলে এতক্ষণ সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে বলার সুযোগ পেতেন না। কীসের ডায়মন্ড হারবার মডেল? কেন ফলতায় প্রচারে আসেননি? এখনও বলছি, হিংসার পথ ছাড়ুন। সবাইকে শান্তিতে থাকতে দিন।''

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement