দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসূচিতে বাধা, কর্মীদের মারধর! ফের কাঠগড়ায় আইএসএফ। আইএসএফ ও তৃণমূলের বিবাদে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। ঘটনায় একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী গুরুতর জখম বলে খবর। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্ত্বে আনে। এলাকায় পুলিশ পিকেটিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ররিবারের ঘটনা ঘিরে নতুন করে তৃণমূল ও আইএসএফের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
জানা গিয়েছে, ভাঙড়ের শানপুকুরের চিনা পুকুরে একটি রাস্তা উদ্বোধনের কর্মসূচি ছিল বিধায়ক শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা মহসিন গাজির। অভিযোগ, সেই কর্মসূচিতে চড়াও হয় আইএসএফের লোকজন। ওই কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়। প্রতিবাদে সরব হন তৃণমূল কর্মীরা। অভিযোগ, আইএসএফের লোকজন তিন তৃণমূল কর্মীকে ব্যাপক মারধর করে। বন্দুকের বাঁট দিয়ে মারের অভিযোগ। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। তৃণমূল ও আইএসএফের মধ্যে জোর বিবাদ শুরু হয় বলে অভিযোগ।
একই দিনে নিমকুড়িয়া গ্রামে আইএসএফের উদ্যোগে রক্তদান শিবির ঘিরেও রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। ওই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। অভিযোগ, আইএসএফ কর্মীরা রক্তদাতাদের শিবিরে নিয়ে আসার সময় তৃণমূল কর্মীরা বাধা দেন। তাঁদের মারধরও করা হয়। ওই ঘটনায় চার আইএসএফ কর্মী জখম হন। তাঁরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উত্তর কাশিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী পোলেরহাট ও শানপুকুর এলাকায় যায়। দুটি এলাকাতেই পিকেটিং চলে। এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার দাবি, “আইএসএফ একের পর এক রক্তদান শিবির করছে, কোথাও বাধা দেওয়া হয়নি। বরং ওরাই আমাদের রাস্তা উদ্বোধনের কাজে বাধা দিয়ে কর্মীদের মারধর করেছে।” পালটা আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর অভিযোগ, “রক্তদাতাদের শিবিরে আসতে বাধা দিয়েছে তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনী। আমাদের তিন-চারজন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে আমরা আইনের দ্বারস্থ হব।” ঘটনা ঘিরে ভাঙড় এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে
