Advertisement
দীপক প্যাটেল থেকে আদিত্য অশোক, কিউয়ি জার্সিতে খেলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ক্রিকেটারা
বছরের পর বছর ধরে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে চর্চায় রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা।
ভারত এবং নিউজিল্যান্ড। দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেট ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। দুই দেশ প্রথমবার টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৫৫-৫৬ সালে। এরপর পায়ে পায়ে ৭০ বছর পেরিয়েছে। এখন সকলের নজর দুই দেশের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজে। কিউয়িদের প্রথম একাদশে রয়েছেন আদিত্য অশোক। যাঁকে নিয়ে চর্চা চলছে। ভারতের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগ। তবে কেবল আদিত্য নন, নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা উল্লেখযোগ্য ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন অনেকেই। তাঁদের নিয়েই এই আলোচনা।
টম পুনা: তাঁর পুরো নাম টম নরোত্তম পুনা। নামেই বোঝা যাচ্ছে, ভারতের সঙ্গে তাঁর সংযোগ রয়েছে। ২৮ অক্টোবর, ১৯২৯ সালে ডানহাতি এই অফস্পিনার সুরাটে জন্মেছিলেন। তিনিই নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে খেলা প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। ১৯৬৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ক্রাইস্টচার্চে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেক হয় তাঁর। দেশের হয়ে ৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। নিয়েছেন ৪টি মাত্র উইকেট।
দীপক প্যাটেল: ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রাক্তন এই অলরাউন্ডারের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৫ অক্টোবর, কেনিয়ার নাইরোবিতে। পুরো নাম দীপক নার্শিভাই প্যাটেল। ১৯৮৭ সালে অভিষেক হয় তাঁর। নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে নামার খেলার আগে কেনিয়ায় থাকতেন তিনি। ১৯৮৭, ১৯৯২ এবং ১৯৯৬, নিউজিল্যান্ড জার্সিতে তিনটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অফস্পিন করতেন। ব্যাট হাতেও সমান পারদর্শী ছিলেন। ৩৭টি টেস্টে ৭৫টি উইকেট রয়েছে তাঁর নামে। সঙ্গে ১২০০ রানও করেছেন। দীপক প্যাটেলকে বলা হত 'নান্দনিক ক্রিকেটার'। ১৯৯২ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মার্টিন ক্রো তাঁকে দিয়ে বোলিং ওপেন করিয়েছিলেন। যা ছিল ওয়ানডে ক্রিকেটে এক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। ক্রো ছাড়া এমন সাহসী সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন কোচ ওয়ারেন লিস-ও।
রাচীন রবীন্দ্র: বেঙ্গালুরুতে জন্ম হলেও তিনি খেলেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে। তাঁর নামকরণও হয়েছে ভারতের দুই প্রাক্তন ক্রিকেটার শচীন তেণ্ডুলকর এবং রাহুল দ্রাবিড়ের নাম মিলিয়ে। রাহুলের 'রা' এবং শচীনের 'চীন' মিলিয়ে রাচীন। ভারতের সঙ্গে তাঁর ‘কানেকশন’ বাবা রবির সৌজন্যেই। তিনি পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। মা দীপা গৃহকর্ত্রী। ১৯৯০-এর দশকে বেঙ্গালুরু থেকে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে চলে আসেন। কিউয়ি ভূমেই তাঁর 'খিলাড়ি' হয়ে ওঠা। ইতিমধ্যেই তিনি দেশের হয়ে বেশ সফল একটা নাম। ২০টি টেস্টে এই বাঁহাতি ক্রিকেটারের রান সংখ্যা ১,৫২৬। গড় ৪৭.৬৮। যার মধ্যে ৫টি হাফসেঞ্চুরি এবং ৪টি সেঞ্চুরি। ১১টি টেস্ট উইকেটও রয়েছে তাঁর নামের পাশে। তাছাড়াও ৩৯টি ওয়ানডে'তে ১,৪২৪ রান করেছেন। গড় ৪১.৮৮। যার মধ্যে ৬টি হাফসেঞ্চুরি এবং ৫টি সেঞ্চুরি। ২০২৩ বিশ্বকাপে অসাধারণ ফর্মে ছিলেন। ৩৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও অংশ নিয়েছেন রাচীন। আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস জার্সিতে তাকে দেখা গিয়েছিল ২০২৪-২৫ মরশুম। আসন্ন আইপিএলে তিনি খেলবেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে। তাঁকে ২ কোটি টাকায় কিনেছে নাইটরা।
ইশ সোধি: লুধিয়ানায় জন্ম তাঁর। একটা সময় আইসিসি'র টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ছিলেন। যখন তাঁর বয়স ৪, সপরিবারে তাঁরা তখন লুধিয়ানা ছেড়ে নিউজিল্যান্ড চলে আসেন। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা এবং ক্রিকেট শিক্ষা। কোচ হিসাবে তিনি পেয়েছিলেন দীপক প্যাটেলকে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২১টি টেস্টে তাঁর সংগ্রহ ৫৮ উইকেট। করেছেন ৫৬১ রানও। এর মধ্যে ৪টি হাফসেঞ্চুরি। তাছাড়াও ৫৪টি একদিনের ম্যাচে নিয়েছেন ৬৫ উইকেট। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর রেকর্ড সবচেয়ে ভালো। দেশের হয়ে ১৩২টি টি-টোয়েন্টিতে সোধির উইকেট সংখ্যা ১৫৭টি। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
আজাজ প্যাটেল: ১৯৮৮ সালে মুম্বইয়ে জন্ম। ৮ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন নিউজিল্যান্ডে। সেখানেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি। সেই তিনি ২০২১ সালে ওয়াংখেড়েতে ইতিহাস গড়েন। তৃতীয় বোলার হিসাবে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেন তিনি। ইংরেজ কিংবদন্তি জিম লেকর এবং ভারতের কিংবদন্তি অনিল কুম্বলের পর তৃতীয় বোলার হিসাবে টেস্টের এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার অনন্য নজির গড়েন তিনি। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তার টেস্ট অভিষেক হয়। দেশের হয়ে খেলা ২২ টেস্টে তিনি ৯১ উইকেট পেয়েছেন। ৭টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
অদিত্য অশোক: তামিলনাড়ুর ভেলোরে জন্ম হয় তাঁর। মাত্র ৪ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি দেন। সেখানে গিয়ে ক্রিকেটে হাতেখড়ি। এবার কিউয়িদের হয়ে জাতীয় দলে খেলছেন আদিত্য। মেন ইন ব্লু'র বিরুদ্ধে খেলছেন এই তরুণ তুর্কি। ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডে' তে ৬ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন তিনি। শুভমান গিলকে সাজঘরে ফেরান তিনি।
জেত রাভাল: আহমেদাবাদে জন্মানো এই ওপেনিং ব্যাটার নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে সফল একটা নাম। ছাত্রজীবনে পার্থিব প্যাটেলের সঙ্গে একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। গুজরাটের অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলেও সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৬ বছর বয়সে সপরিবারে তাঁরা নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে চলে যায়। কিউয়িদের ২৪ টেস্টে ১,১৪৩ রান করেছেন। যার মধ্যে ৭টি হাফসেঞ্চুরি, ১টি সেঞ্চুরি।
জিতেন প্যাটেল: পুরো নাম জিতেন শশী প্যাটেল। তাঁর পূর্বপুরুষরা গুজরাটের নবসারিতে থাকতেন। তবে এই ক্রিকেটারের জন্ম নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে। বেড়ে ওঠাও সেখানে। দেশের হয়ে ২৪টি টেস্ট এবং ৪৩টি ওয়ানডে খেলেছেন।
রনি হীরা: অকল্যান্ডে জন্মানো এই ক্রিকেটারের ভারত সংযোগ রয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুর্দান্ত সফল রনি দেশের হয়ে ১৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। ২০০৬ সালে নিউজিল্যান্ডের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও খেলেছিলেন তিনি।
তরুণ নেথুলা: নিউজিল্যান্ডের এই লেগস্পিনারের জন্ম অন্ধ্রপ্রদেশে। ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন। ২০০৮-০৯ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক। প্রথম মরশুমেই ছাপ রেখেন। উইকেট তালিকার শীর্ষে থেকে অকল্যান্ডকে স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতান। ২০১২ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। দেশের হয়ে ৫টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 09:47 PM Jan 11, 2026Updated: 12:31 AM Jan 12, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
