সুমন করাতি, হুগলি: বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর জানিয়েছিলেন, বাংলায় এসআইআরে যদি ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশির নাম বাদ যায়, তাহলে একলক্ষ মতুয়ার নাম বাদ গেলে কিছু যায় আসে না। কোথায় সেই ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা? শান্তনু ঠাকুরকে প্রশ্ন করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের প্রতিও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। এসআইআরে সব থেকে বেশি নাম মতুয়াদের বাদ যাবে। আরও একবার সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
হুগলির চুঁচুড়া রবীন্দ্রনগরের মতুয়া সংঘের বার্ষিক অনুষ্ঠানে আজ, রবিবার উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। সেখানেই তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আরও একবার নিশানা করেছেন। বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের দিকেও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। শান্তনু ঠাকুর এসআইআর আবহে জানিয়েছিলেন, যদি ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশির নাম বাদ যায়, তাহলে একলক্ষ মতুয়া বাদ গেলে কিছু যায় আসে না। সেই নিয়ে জোর রাজনৈতিক গুঞ্জনও ছড়ায়। শান্তনু ঠাকুরের পক্ষে দাঁড়ান বিজেপির অন্যান্য নেতারা। এদিন সেই ইস্যুতে শান্তনুকে নিশানা করেছেন মমতাবালা। কোথায় ওই ৫০ লক্ষ মতুয়া? শান্তনু ঠাকুরের কাছে জবাবদিহি চাইলেন মমতাবালা।
এদিন তিনি বলেন, "মতুয়ারা ভয়ে আছে। বিজেপি একেক সময় একেক রকম কথা বলছে। আদৌ তাঁরা ভোট দিতে পারবে কিনা সেই একটা সংশয়।নির্বাচন কমিশন আবার বলছে সিএএর তথ্য দিতে। ২০১৯ থেকে কতজনকে তারা নাগরিকত্ব দিয়েছে? সুপ্রিম কোর্ট বলছে, সিএএতে আবেদন করলেই সে যে নাগরিকত্ব পাবেন, তা ভুল। তার তথ্য দিতে হবে। তথ্য দিয়ে আগে নাগরিকত্ব পাবে তারপর ভোটাধিকার। এত ভাওতা এত মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এরা মানুষকে পাগল বানিয়ে দিচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি, যে আপনারা আধার কার্ডটা মাস্ট করুন। যারা মৃত এবং ভুয়ো ভোটার তাঁদের নাম বাদ যাক। কিন্তু যাদের ভোট ২০০২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নিয়ে সরকার তৈরি হল, এখন বলছে তাঁরা বৈধ নয়। তাহলে তো সরকারই বৈধ নয়। তাহলে সরকার ফেলে দিক। এরপর এসআইআর হোক।নির্বাচন হোক।" মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি মমতাবালার বার্তা, "মতুয়াদের বলব ভোট কাকে দেবেন, সেটা ঠিক করবেন আপনি। কিন্তু নাম একবার কেটে গেলে তাঁর বংশের কারও নাম ভোটার লিস্টে উঠবে না। ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে গোলামি করাবে।"
