পাশের রাজ্য সিকিম 'ভারতের সেরা পর্যটক বান্ধব রাজ্য' সম্মান পেয়েছে। সেসময় দার্জিলিংয়ে পর্যটকদের গাড়িতে হামলার ঘটনা চলছে! প্রশাসনের নিরাপত্তার আশ্বাস সত্ত্বেও গতকাল, রবিবার রাতে জোড়বাংলোয় দাঁড়িয়ে থাকা কলকাতার একটি ট্যুরিস্ট বাস ভাঙচুর হয় বলে অভিযোগ। সোমবার গাড়ির চালক উত্তম রায় জোড়বাংলো থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, "এটা মেনে নেওয়া যায় না। অনেক পরিশ্রম করে দার্জিলিংয়ে পর্যটন শিল্প প্রসারের কাজ চলছে। এর মধ্যে কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করছে। এভাবে চললে পর্যটকরা আসতে চাইবে না। ঘটনা শোনার পরই আমি জিটিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কড়া পদক্ষেপের জন্য অনুরোধ করেছি।" চলতি মরশুমে পর্যটকদের ভিড় রয়েছে শৈলশহরে। দার্জিলিংয়ের অফবিট জায়গাগুলিতেও পর্যটকদের যথেষ্ট উপস্থিতি রয়েছে। এই আবহে পর্যটকদের গাড়িতেই হামলা ! ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে পর্যটকদের একাংশের মধ্যেও। পাহাড়ের পর্যটনেও এর প্রভাব আগামী পড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি দার্জিলিংয়ে একদল পর্যটককে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। দার্জিলিংয়ের ঘুম মনাস্ট্রি এলাকার ওই ঘটনায় রাস্তার পাশে দাঁড়াতে কয়েকজন ছুটে এসে পর্যটকদের গাড়ি ঘিরে ধরেন। পর্যটক নামানোর আগে চালককে গাড়ি ঘুরিয়ে নিতে চাপ দেয়। এরপর চালক পর্যটকদের না নামিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে শিলিগুড়ি ফিরে যান। রবিবার রাতে কলকাতা থেকে পর্যটকদের নিয়ে আসা বাসে হামলা চলে। দু’জন একটি ছোটগাড়িতে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঢিল ছুড়ে গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়!
কালিম্পং ঘুরে পর্যটক দলটি রাতে দার্জিলিং নেহরু রোডের একটি হোটেলে উঠেছিল। পার্কিংয়ের জায়গা না পেয়ে চালক প্রথমে লেবংয়ে যান। সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ে স্থানীয়রা আপত্তি জানালে চালক জোড়বাংলোয় বনদপ্তরের অফিসের সামনে বাস রাখেন। কিছুক্ষণের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের চালকদের গাড়িতে পর্যটকদের পাহাড়ে ঘোরানোর দাবিতে কিছুদিন থেকে আন্দোলনে নেমেছে পাহাড়ের চালকেরা। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ১৬ জানুয়ারির পরে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু আশ্বাসই সার। গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা থামছে না কিছুতেই।
