ভোটের ফল প্রকাশের পর বর্ধমান শহর, সংলগ্ন বর্ধমান উত্তর বিধানসভা এলাকা, জামালপুরে বার বার বিজেপির (BJP) গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। কোথাও তোলাবাজির অভিযোগও সামনে এসেছে। আদি, নব্য এবং হঠাৎ বিজেপি নিয়ে রাজনৈতিক হিংসাও ছড়িয়েছে। রাজ্য নেতৃত্ব বার বার সতর্ক করলেও অনেক জায়গায় তা বন্ধ হয়নি। এবার এই নিয়ে কড়া অবস্থান নিল বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার একজন ও কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার আরও একজন নেতাকে দলবিরোধী কাজের শোকজ করা হয়েছে।
বর্ধমান উত্তরের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস ও জামালপুরের মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালকে ৭ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, বিজেপির রাজ্যের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রমুখ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সঞ্জয় দাসকে রাজ্য বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি প্রমুখ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, "আপনার বিরুদ্ধে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলের নির্দেশ অমান্য করে কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তিদের দলে যোগদান করিয়েছেন যার দরুন মতবিরোধ ও তাদের দ্বারা অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘঠিত হয়েছে এ ছাড়া আরও একাধিক দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এসেছে যা লজ্জাজনক ও দলীয় সংবিধান বিরোধী।" পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি'র শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সুপারিশে ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশানুসারে এইরূপ আচরণ ও দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য সঞ্জয়কে আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই দলবিরোধী কার্যকলাপের কারণ পত্রদ্বারা জানাতে হবে এবং আগামী নির্দেশ না পাওয়া অবধি তাঁকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা করার কথা জানানো হয়েছে। এই চিঠির প্রেক্ষিতে সঞ্জয় দাস দাবি করেন, "আমি এসব চিঠির কথা জানি না। এসব হোয়াটস্যাপ, ফেসবুকে আপনাদের মতো আমিও দেখছি। দল আমাকে এইসব কিছু পাঠায়নি। তাই এইসব নিয়ে কোনও মন্তব্যও করবো না।"
একইভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে জামালপুর ১ মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালকেও। তিনি চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "দল আমাকে চিঠি দিয়েছে। আমি দলের কাছেই উত্তর দেব। বহু অপমান, হুমকি, মার খেয়ে আমি দলটা করেছি এখানে। বর্তমান বিধায়ক সেটা জানেন। যারা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন তারা কতদিন আগে দলে ঢুকেছে সেটাও সবাই জানে। আমি দলের কাছে সব জানানোর পরে দল যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটা মাথা পেতে মেনে নেব।"
সম্প্রতি বর্ধমান শহরে বিজেপির দ্বন্দ্বে সঙ্ঘর্ষ, থানা ঘেরাওয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। আবার তোলাবাজির বিভিন্ন অভিযোগও উঠেছে। আবার জামালপুরেও বালিখাদান নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিবাদও চরমে ওঠে। একপক্ষ থানাও ঘেরাও করে। পাল্টা মিছিল হয়। আবার পাল্টা থানা ঘেরাওয়ের মতো ঘটনাও ঘটে। যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় দলকে। এবার সেটা নিয়েই কড়া পদক্ষেপ করলো রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।
