বীরভূমের 'পাথরসম্রাট' টুলু মণ্ডল নাকি অনুব্রত ঘনিষ্ঠ। বারবার এই তথ্য সামনে আসায় বিরক্ত অনুব্রত। প্রয়োজনে মানহানি মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
অনুব্রত বলেন, "বীরভূমে যা ঘটছে তাঁরাই নাকি অনুব্রত ঘনিষ্ঠ। আমি যখন জেলা সভাপতি ছিলাম, আমার কাছে অনেকেই আসতেন। তা বলে আমার ঘনিষ্ঠ হয়ে গেল? ওঁর মেয়ের বিয়েতে তো অনেকেই গিয়েছিল। আমি তো যাইনি। আমি কোনও ভোজবাড়িতেই যাই না।" যে বা যাঁরা টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর নাম জড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অনুব্রত।
অনুব্রত ঘনিষ্ঠতার তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন ঠিকই। তবে লোকমুখে শোনা যায়, টুলু মণ্ডলের উল্কাগতিতে উত্থানের নেপথ্যে নাকি রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। দিনমজুরির কাজ করতে করতেই গাড়িতে পাথর চাপানোর ইজারা নেন টুলু। সেখান থেকে কিছুটা টাকা রোজগার করে ধাপে ধাপে কয়েকটি লরি কিনে নিজেই হাত পাকান পাথর পরিবহণের ব্যবসায়। ধীরে ধীরে আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। দ্বিতীয় ধাপে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলের জেলা ও রাজ্য স্তরের নেতারা বুঝতে পারেন, মহম্মদবাজারে মাটির তলায় পাথরের নয় বরং টাকার খনি রয়েছে। সেখান থেকে বিপুল রোজগার করা সম্ভব। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকার উপর নজর পড়ে নেতাদের, আর আবারও নিজের শিক্ষিত মাথাকে কাজে লাগিয়ে নেতাদের সঙ্গে পাথর ব্যবসায়ীদের সখ্যতার নিরিখে প্রথম স্থানে চলে আসেন টুলু মণ্ডল। এতে টুলুর উত্থানের পথ আরও প্রশস্ত হয়। তবে ২০১৬ সালে অনুব্রত মণ্ডলের স্নেহধন্য হওয়ার সুবাদে ডিসিআরের টোল গেট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। শুরুতে বাড়ির এলাকা সোঁতশাল টোলগেটের। পরে ওই এলাকার আরও ছ’টি টোলগেটের। সেখান থেকেই তাঁর ফুলে ফেঁপে ওঠা। আপাতত কোনও খোঁজ নেই টুলুর। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলেই খবর।
