shono
Advertisement
Swimmer Sayani Das

বাবা বামকর্মী, তৃণমূল আমলে 'ঘৃণ্য রাজনীতি'র শিকার! বিস্ফোরক সাঁতারু সায়নী

কালনার বিজেপি বিধায়কের কাছে সায়নী এই নালিশ জানাতেই মিলল সমাধান, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সাঁতারু।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:07 PM Jul 30, 2026Updated: 09:22 PM Jul 30, 2026

বাবা বামপন্থী দলের কর্মী। তাই তৃণমূল আমলে ‘ঘৃণ্য রাজনীতি’র শিকার হতে হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাফল্যের চূড়ায় থাকা রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাঁতারু সায়নী দাসকে! কালনায় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের ফতোয়া গত দেড় দশক কালনার সুইমিং পুলে নামতে দেওয়া হয়নি সায়নীকে। তাঁর প্রতিভা নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করে সুইমিং পুলের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সায়নী কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদারের দ্বারস্থ হয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। এই অভিযোগ পেয়েই বিজেপি বিধায়ক কালনার সুইমিং পুলের তালা খুলে দেন। সায়নীকে সেখানেই প্র্যাকটিস করার কথা জানান তিনি। কৃতজ্ঞতার সুরে সায়নী জানান, “বিধায়কের সৌজন্যে আজ প্রতিভা যোগ্য সম্মান পেল।”

Advertisement

সায়নীর অভিযোগ, “২০১০ সাল থেকে আমাকে সুইমিং পুলে নামতে দেওয়া হয়নি। তখন আমার ১২ বছর বয়স। আমার বাবা যেহেতু বাম রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ, তাই ওইটুকু বয়স থেকেই আমি ঘৃণ্য রাজনীতির শিকার।” এই কারণে তাঁকে বছরের পর বছর ধরে কালনার পুকুরে, ভাগীরথী নদীতে, এমনকি কালনার বাইরে ভিন জেলায় থাকা সুইমিং পুলে গিয়ে গত ১৫ বছর ধরে অনুশীলন করতে হয়েছে। এদিন সুইমিং পুলে দাঁড়িয়ে বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “প্রতিভার কোনও রাজনৈতিক পরিচয় হয় না। সায়নী কালনাকে, বাংলাকে তথা গোটা দেশকে গর্বিত করেছে। আমরা তার পাশে আছি।”

কালনার সায়নী ঘোষ ষষ্ঠ সিন্ধুজয়ী সাঁতারু। তিনি রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছেন। এত প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও গত দেড় দশক ধরে 'রাজনীতি'র শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর। এতদিন সায়নীকে ‘ব্ল্যাক আউট', ‘সাবোতাজ’ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। যিনি সায়নীর সঙ্গে এমন ষড়যন্ত্র করেছেন বলে অভিযোগ, কালনার সেই প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ এই মুহূর্তে দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে। দেবপ্রসাদের সেই ফতোয়া ভেঙে আজ সুইমিং পুলের দরজা খুলে দিয়ে সায়নীর পাশে দাঁড়ালেন কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার।

সায়নীর জন্য কালনার সুইমিং পুল খুলে দিলেন বিজেপি বিধায়ক, নিজস্ব ছবি

সায়নীর অভিযোগ, “২০১০ সাল থেকে আমাকে সুইমিং পুলে নামতে দেওয়া হয়নি। তখন আমার ১২ বছর বয়স। আমার বাবা যেহেতু বাম রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ, তাই ওইটুকু বয়স থেকেই আমি ঘৃণ্য রাজনীতির শিকার।” এই কারণে তাঁকে বছরের পর বছর ধরে কালনার পুকুরে, ভাগীরথী নদীতে, এমনকি কালনার বাইরে ভিন জেলায় থাকা সুইমিং পুলে গিয়ে গত ১৫ বছর ধরে অনুশীলন করতে হয়েছে। এদিন সুইমিং পুলে দাঁড়িয়ে বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “প্রতিভার কোনও রাজনৈতিক পরিচয় হয় না। সায়নী কালনাকে, বাংলাকে তথা গোটা দেশকে গর্বিত করেছে। আমরা তার পাশে আছি।”

ক্ষোভের সুরে সায়নীর বাবা তথা প্রশিক্ষক রাধেশ্যাম দাসের বক্তব্য, “সায়নী একটা পর একটা আন্তর্জাতিক চ্যানেল জয় করে বাড়ি ফিরেছে। অথচ কালনার তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ বা তৃণমূল শাসিত পুরসভা শুভেচ্ছা জানানোর ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও দেখাননি। এমনকী বছরের পর বছর সুইমিং পুলটাই ব্যবহার করতে দেয়নি। সায়নীকে পুকুরে, ভাগীরথীতে প্র্যাকটিস করতে হত।” এনিয়ে কালনা পুরসভার উপপ্রধান তপন পোড়েল জানান, ''আমাদের আগের বিধায়কের সঙ্গে সায়নীদের একটা ইগো সমস্যা ছিল। ব্যাপারটা আমি অনেক পরে জানতে পারি। তবে এখনকার বিধায়ক যে উদ্যোগ নিলেন, তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।'' 

কয়েকদিন আগে জাপানের সুগারুতে নামলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও শারীরিক সমস্যার কারণে সায়নীকে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে হয়। শরীরে চোট থাকায় বর্তমানে তিনি চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন। আগামী বছর তিনি ফের সুগারু অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু গঙ্গায় নামাটা তাঁর পক্ষে এখন ঝুঁকির হয়ে যাবে। তাই এখন তাঁকে সুইমিং পুলেই অনুশীলন করতে হবে। তা জেনেই বিধায়কের তৎপরতায় কালনা পুরসভার সুইমিং পুলে নামার ছাড়পত্র দেওয়া হল সায়নীকে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই সাঁতারুকে একটা চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করার জন্য বিধায়ক সরকারের কাছে জানিয়েছেন বলে জানান।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement