shono
Advertisement

রোদের আঁচে মাংস রেঁধে তাক লাগালেন বাঁকুড়ার এই শিক্ষক

গরমে অবাক পিকনিক কীভাবে সম্বব হল জানেন? The post রোদের আঁচে মাংস রেঁধে তাক লাগালেন বাঁকুড়ার এই শিক্ষক appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 07:37 PM May 23, 2017Updated: 02:07 PM May 23, 2017

গৌতম ব্রহ্ম: আগুন নেই৷ ইন্ডাকশন কুকার নেই৷ হিটার নেই৷ শুধু একটা বাতিল ডিশ অ্যাণ্টেনা৷ তার উপরে রাখা প্রেশার কুকারে টগবগ করে ফুটছে মুরগির মাংস৷ খোলতাই সুবাসে চারদিক ম ম৷

Advertisement

৪৫ মিনিটে রান্না শেষ৷ একটু আগেই খিচুড়ি নেমেছে৷ সময় লেগেছে প্রায় ৫০ মিনিট৷ তাতেও আগুনের জ্বাল লাগেনি৷ লেগেছে শুধু রোদ৷
হ্যাঁ, জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদে খিচুড়ি-মাংস রেধে ১৫ জন খেলেন৷ গোটা গ্রাম অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে দেখল৷ সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে৷  দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দেখতে এলেন সেই ‘সোলার কুকার’৷

বাঁকুড়ার রাধানগর গ্রাম৷ এই গ্রামেরই কয়েকজন যুবক-যুবতী এই অভিনব রোদ-উনুন বানিয়েছেন৷ প্রথমে ডিম ভেজেছেন৷ তারপর খিচুড়ি-মাংস৷ গোটা কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে পদার্থবিদ্যার শিক্ষক সৌম্য সেনগুপ্ত৷ ইউটিউব ভিডিও দেখে সৌম্য এই সৌর উনুন তৈরির চেষ্টা করেন৷ সৌম্য জানালেন, বাজারে এখন যে সব সোলার-কুকার পাওয়া যায়, তাতে শুধু সেদ্ধ করা যায়৷ গরম জল বানানো যায়৷ ডিমের পোচ করা যায়৷ কিন্তু কোনও কিছু ভাজা যায় না৷ মাংস রান্না তো অনেক দূরের কথা৷

[অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ফিরছে পাস-ফেল প্রথা]

এখান থেকেই ‘প্যারাবোলিক’ সোলার কুকারের চিন্তাভাবনার শুরু৷ সৌম্য জানালেন, প্রথমে আমি আমাদের মাস্টারমশাই মানিকলাল সিংহের বাড়ি থেকে একটি বাতিল ডিশ অ্যাণ্টেনা জোগাড় করি৷ তাতে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল লাগাই৷ তারপর লোহার কাঠামো বানিয়ে ফোকাল পয়েণ্টে প্রেশার কুকার বসানোর জায়গা তৈরি করা হয়৷ তাতেই কেল্লা ফতে৷ স্রেফ সূর্যের আঁচে পৌনে এক ঘণ্টায় তৈরি দেড় কেজি মাংস সুস্বাদু, মশলাদার৷ এই আবিষ্কারে সৌম্যকে সহায়তা করেছেন তাঁর স্ত্রী রেখা ঝারিমুন্যা, জয়দেব কর্মকার ও শ্রীকৃষ্ণ সিনহা৷ এখন সেই ‘সোলার কুকার’ স্কুলে স্কুলে ঘুরছে৷ সৌম্যর নিজের স্কুল রাধানগর বোর্ড প্রাথমিক স্কুলে ওয়ার্কশপ হয়েছে ওই কুকারকে সামনে রেখে৷ কুকারে পঁচিশ-তিরিশটা ডিম সেদ্ধ করে রোদের তেজ বুঝিয়েছেন সৌম্য৷ খবর পেয়ে কয়েকজন সরকারি আধিকারিকও দেখে গিয়েছেন৷ এবং ম্যাজিক কুকার তৈরির খরচ শুনে রীতিমতো চমকে উঠেছেন৷ সৌম্য জানিয়েছেন, এই কুকার বানাতে তাঁর হাজার টাকাও লাগেনি৷ লোহার কাঠামোর জন্য সাড়ে আটশো টাকা৷ অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের জন্য একশো টাকা৷ সাড়ে ন’শো টাকার কুকারেই ৯৫ মিনিটে খিচুড়ি-মাংস রেঁধে পনেরোজনকে খাইয়েছেন সৌম্যরা৷

[কীভাবে খুন করতে হবে স্বামীকে, প্রেমিককে শিখিয়েছিল মনুয়াই]

সৌম্য জানিয়েছেন, তাঁর কারিগরির মূল ব্যাপারটা অনেকটা আতসকাচে রোদ ফেলে কাগজ পোড়ানোর মতো৷ ডিশ অ্যাণ্টেনা অবতল দর্পণের কাজ করেছে৷ সূর্যের আলোকরশ্মি সমান্তরাল ভাবে এই দর্পণের গায়ে পড়ে একটি বিন্দুতে (ফোকাল পয়েণ্ট) মিলিত হয়৷ ওই পয়েণ্টেই কুকার রাখা হয়৷ সৌম্যর মত, তাঁদের কুকার ১৩০ ডিগ্রির উপর তাপমাত্রা তৈরি করেছে৷ তাই মুরগির মাংস সেদ্ধ হয়েছে৷ তাঁর দাবি, নিখুঁতভাবে প্যারাবোলিক সোলার কুকারে হাজার ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা তৈরি করা যায়৷ তখন রোদে লোহাও গলানো যাবে!

The post রোদের আঁচে মাংস রেঁধে তাক লাগালেন বাঁকুড়ার এই শিক্ষক appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার