পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga Protest)। দীর্ঘক্ষণ ধরে রেললাইন আটকে বিক্ষোভে উত্তেজিত জনতা। অবরুদ্ধ ১২ নম্বর জাতীয় সড়কও। দাউদাউ করে জ্বলছে টায়ার। ঘটনাস্থলে বিশালপুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভের জেরে রেল ও সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ। নাকাল যাত্রীরা। অশান্তির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। গিয়েছেন মৃতের বাড়িতেও।
অশান্তির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।
মহেশপুরে রেলঅবরোধ। ছবি: শাহাজাদ হোসেন।
শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ডে উদ্ধার হয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের দেহ। খবর পৌঁছনোর পরই শিয়ালদহ লালগোলা শাখার মহেশপুরে রেল লাইনে বসে পড়ে উত্তেজিত জনতা। লাইনে ফেলে দেওয়া হয় বাঁশ। স্বাভাবিকভাবেই একের পর এক দাঁড়িয়ে পড়ে লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। এদিকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে একদল। রাস্তার উপর একের পর এক জ্বালানো হয় টায়ার। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে বিক্ষোভ তোলার চেষ্টা করা হলেও বিশেষ লাভ হয়নি। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ায় বিক্ষুব্ধরা। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিকে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন আটকে, সড়কে একের পর এক গাড়ি আটকে। ফলে প্রবল ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে রীতিমতো আতঙ্কে কাঁটা তাঁরা।
শিয়ালদহ লালগোলা শাখার মহেশপুরে রেল লাইনে বসে পড়ে উত্তেজিত জনতা। লাইনে ফেলে দেওয়া হয় বাঁশ। স্বাভাবিকভাবেই একের পর এক দাঁড়িয়ে পড়ে লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। এদিকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে একদল। রাস্তার উপর একের পর এক জ্বালানো হয় টায়ার।
এদিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান অধীররঞ্জন চৌধুরী। কথা বলেন মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, "বাংলার মুসলমান সম্প্রদায়ের পুরুষ মানুষরা রোজগার বাড়ানোর জন্য বাইরে কাজে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁদের যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে। এবার আলাউদ্দিন শেখকে ঝাড়খণ্ডে হত্যা করা হয়েছে। তার প্রতিবাদে বেলডাঙা বিক্ষোভ-অবরোধ চলছে। আমি বলব অবরোধ তুলে নিতে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান। একইভাবে বেলডাঙার প্রশাসনকে বলব, নানারকম ঘটনা ঘটছে মুর্শিদাবাদে। আপনারা তদন্ত করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিন। নাহলে কিন্তু জনরোষ রাস্তায় নেমে এলে আপনারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। সেটা আমরা চাই না।"
