shono
Advertisement

সস্তায় ২০ হাজারে বাইক কিনেছেন? ঠিকানা হতে পারে শ্রীঘর

সাধু সাবধান! আন্তঃরাজ্য পাচারকারীরা সক্রিয়। The post সস্তায় ২০ হাজারে বাইক কিনেছেন? ঠিকানা হতে পারে শ্রীঘর appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 03:43 PM Dec 06, 2017Updated: 06:26 PM Sep 20, 2019

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়াসাবধান! ঝাঁ–চকচকে সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক যত সস্তাতেই হাতের নাগালে আসুক না কেন তা থেকে দূরে থাকাই ভাল। না হলে হাতে পড়তে পারে হাতকড়া! কারণ চোরাই বাইক গ্যাং পুরুলিয়ার অলি-গলি থেকে মফস্বলে- রীতিমতো দরজায় কড়া নেড়ে দিচ্ছে নানান প্রলোভন।

Advertisement

[ আলুতে দেদারে মিশছে বিষাক্ত রং, বুঝবেন কীভাবে? ]

ষাট হাজারি বাইক যে পাওয়া যাচ্ছে আঠারো থেকে কুড়ি হাজার টাকাতেই। লাখ থেকে দেড় লাখের বাইক অর্ধেকেরও কমে। দামের এমন পড়তি দেখে বোঝার উপায়ই নেই তা আসলে চোরাই বাইক। বুঝবেনই বা কী করে? কাগজপত্র যে একেবারে নতুনের মতো। পাকা রসিদ। সেই সঙ্গে একেবারে নিউ রেজিস্ট্রেশন কার্ড। দেখলে বোঝার উপায় নেয় ওই কার্ড ভুয়ো। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের গাড়ি বিষয়ক সফটওয়্যার  ‘বাহন’-এ এসএমএস করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু গ্রামে-গঞ্জে এত ভেরিফিকেশন করবে কে? ফলে পুরুলিয়া-সহ লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে রমরমিয়ে চলছে চোরাই বাইক চক্র। তবে সম্প্রতি পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সাফল্যেই এই বাইক চোরাই চক্র সামনে আসে। গত জুলাই মাসে জেলার পাঁচটি থানা এলাকা থেকে ৪৪টি বাইক বাজেয়াপ্ত করে ন’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সাফল্যে দুটি চক্রের হদিশ মেলে। কিন্তু কোন চক্রেরই ‘কিং পিন’-কে এখনও জালে ফেলতে পারেনি পুলিশ। বাঘমুন্ডি-ঝালদা চক্রের মাস্টারমাইন্ড বিকাশ কর্মালি এখনও অধরাই। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের রামগড়ের কেদলা গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ কর্মালি-র বাড়ি ঝালদার গড়িয়া গ্রামে। এখন তাকে ধরতে মরিয়া পুলিশ।

 [বাজারে গিয়ে রংচঙে মাছ পছন্দ? আপনিই কিন্তু জালে পড়ছেন!]

[ মোটা মাইনের ফাঁদ, ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে কৈশোর কাটছে ক্রীতদাস হয়ে ]

এই বিকাশ কর্মালিই ঝাড়খণ্ড থেকে বাইক পাঠায় পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড সীমানা বাঘমুন্ডি, ঝালদা ও কোটশিলায়। প্রায় দশটা সিম থেকে ফোন করে চোরাই বাইক বিক্রির ‘ডিলার’ খোঁজে সে। তারপর পাকা কথা সেরে ওই ‘ডিলার’ বা ‘এজেন্ট’দের হাতে বাইক পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দেয় তার লোকজন। মাঝেমধ্যে সেও আসে বাইক নিয়ে। একসঙ্গে কখনও দুটির বেশি বাইক আনে না। বলা যায়, চোরাই বাইকের ‘বিগ ডিস্ট্রিবিউটর’ এই বিকাশই, অভিযোগ এমনটাই। পুলিশ এখনও পর্যন্ত যা তথ্য পেয়েছে তাতে ঝাড়খণ্ডের রাঁচির বরিআতু, চুটিয়া, নামকূম, হিন্দপিড়ি ও রামগড় ক্যান্টনমেন্ট থেকে চোরাই করা বাইক নিয়ে কারবার চলে। মূলত নতুন চোরাই বাইককেই এই কারবারে লাগানো হয়। যাতে সেকেন্ড হ্যান্ড হলেও সহজেই চোখ টানে। তবে এই দুই চক্রে গ্যাং কিন্তু আলাদা। পুলিশ কিন্তু এখনও তাদের সকলের খোঁজ পায়নি।

[ সিঁধেল চোররাও হাত পাকিয়েছে সাইবার ক্রাইমে, হয়রান শিল্পাঞ্চলের পুলিশ ]

তবে বলরামপুর-আড়শা  চক্রের দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই চোরাই বাইক আগে বিক্রি হয়, তারপর হয় পেমেন্ট। বিভিন্ন হাত ঘুরে সেই টাকা নানান চক্রের সদস্যদের কাছে পৌঁছে যায়। একটা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই ক্রাইম চলে। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে তারা চোরাই বাইকগুলির নানান যন্ত্রাংশ খুলে একে অপরের সঙ্গে লাগিয়ে দেয়। দুটি চক্রেই ‘এজেন্ট’ রা তাদের গোপন ডেরা তে চোরাই বাইক বিক্রির কার্যত শো-রুম বানিয়ে ফেলে। বাঘমুন্ডি-ঝালদা চক্রের কিনারা প্রায় হয়ে গেলেও বলরামপুর চক্রের ‘মাষ্টারমাইন্ড’ কে তা অবশ্য এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। তবে এই চোরাই চক্রে ঝাড়খন্ডের রাঁচির একটি শো-রুম এই ক্রাইমে জড়িয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। কারণ এই চোরাই বাইক বিক্রিতে ওই শো-রুমেরই একাধিক রসিদ মেলে। পুলিশের এই ধর-পাকড়ের পর কোটশিলায় এই চোরাই বাইক কেনা দু’জন ফিরিয়েও দেয় থানাতে। বলরামপুর–আড়শার চক্রে চোরাই বাইক বিক্রিতে কোন কাগজপত্র দেওয়া হত না। এই চক্রের  সফট টার্গেট প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র মানুষজন!

ভালবাসা ‘ছিনতাই’ করে অপরাধে হাত পাকাচ্ছে আগামীর ক্রিমিনালরা ]

[  এক ফোনেই বাড়িতে রান্নার গ্যাস, প্রতিবার ঠকে যাচ্ছেন না তো? ]

বাইক চোরাই চক্রের খতিয়ান

বাঘমুন্ডি: ৭জুলাই গোবিন্দপুর থেকে গ্রেপ্তার শম্ভু কর্মকার। তার বাড়ির চিলেকোঠা থেকে ১৮টি বাইক উদ্ধার হয়। অভিযানে ওসি শেখ ইসমাইল আলি।

ঝালদা:২৩ জুলাই গড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার দিলীপ কর্মালি। ২৬ জুলাই জালে ওই এলাকার পরীক্ষিৎ কর্মালি। উদ্ধার ৪টি বাইক। অপারেশনে আই সি ত্রিগুনা রায়।

কোটশিলা:২৩ জুলাই রিগিদ থেকে ধরা পড়ে চণ্ডী কর্মকার। ২৫ জুলাই গ্রেপ্তার রিগিদের গোলোক নাপিত। উদ্ধার ৪টি বাইক। ক্রয়ের পর ২টি বাইক থানায় জমা ক্রেতাদের। অভিযানে ওসি পলাশ বারিক।

বলরামপুর:১৮ জুলাই পরগোড়া থেকে পুলিশের জালে জিতেন হাঁসদা। ২৩ জুলাই গ্রেপ্তার ঝাড়খন্ডের সরাইকেলা–খরসোওয়া জেলার নিমডির মহাদেব কুমার ও হৃদয় কুমার। মোট বাইক উদ্ধার ১৪ টি। অপারেশনে ওসি আদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়।

আড়শা:২৫ জুলাই হেটগুগুই থেকে ধৃত অজয় মাহাতো। উদ্ধার ২টি বাইক। অপারেশনে ওসি শ্রীকান্ত মূলা।

ছবি: অমিত সিং দেও             

The post সস্তায় ২০ হাজারে বাইক কিনেছেন? ঠিকানা হতে পারে শ্রীঘর appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার