shono
Advertisement

Breaking News

Dilip Ghosh

'গোয়ালঘরের গুঁতোগুঁতি', দিলীপের সভার পর উত্তরপাড়ায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে খোঁচা তৃণমূলের

বুধবার মাখালা মণ্ডলে দিলীপ ঘোষের সভার পরই বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত হন কয়েকজন।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 05:53 PM Jan 29, 2026Updated: 07:25 PM Jan 29, 2026

সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার পালটা দিতে গিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আঁচ গায়ে লাগল দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)! বুধবার উত্তরপাড়ার মাখলা মণ্ডলে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতির সভার পরই দুই গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ঘটনাকে 'গোয়ালঘরের গুঁতোগুঁতি' বলে কটাক্ষ করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এনিয়ে দিলীপ ঘোষ অবশ্য দায়সারা প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানান, অশান্তির কথা তাঁর জানা ছিল না। স্থানীয় নেতৃত্বকে এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

Advertisement

বুধবার দুপুরে সিঙ্গুরে সভা করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সন্ধ্যায় উত্তরপাড়া মাখলা মণ্ডল এলাকায় ছিল দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) দলীয় সভা। সেখানে কর্মীদের উদ্দেশে তৃণমূল বিরোধী বার্তা শোনা গিয়েছিল তাঁর গলায়। এরপর দিলীপ ঘোষ এলাকা ছাড়তেই দলের দুই গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, দিলীপ ঘোষের সভা থেকে বেরিয়ে এসে মাখলা মন্ডল অফিসের ভিতর মণ্ডল সভাপতি গৌতম মাঝির উপর চড়াও হন বিজেপির হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুমন ঘোষের অনুগামীরা। বুদ্ধদেব রায়চৌধুরী, অশোক রুদ্র, পার্থ দাস, শুভাশিস ঘোষ, জয় রং, বিনোদ পাসওয়ান, বিনোদ সাউ, প্রতাপ কুণ্ড-সহ আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। রিভলবারের বাট, ইট, বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয় মণ্ডল সভাপতি গৌতম মাঝি-সহ অরূপ দে, তাপস দে, রাজীব দেবনাথকে। আহত বিজেপি নেতা-কর্মীরা, উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মণ্ডল সভাপতি গৌতম মাঝির আঘাত গুরুতর থাকায় তাঁকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করতে হয়।

গুরুতর আহত মণ্ডল সভাপতি গৌতম মাঝির অভিযোগ, জেলা সভাপতি সুমন ঘোষ দলবিরোধী একাধিক কাজে যুক্ত। আসন্ন নির্বাচনে দল যাতে না জেতে তার জন্য সমস্ত মণ্ডল এলাকায় গন্ডগোল বাঁধিয়ে রেখেছেন। তাঁর লোকজন এদিন মণ্ডল অফিসে এসে মণ্ডল সভাপতির পর থেকে গৌতমকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে এবং দলের বেশ কয়েকজন পুরনো কর্মীকে ব্যাপক মারধর করা হয়। মাখলা মণ্ডলের বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক বাপ্পা মণ্ডল এই ঘটনায় সরাসরি জেলা সভাপতিকে দায়ী করে পদত্যাগ দাবি করেছেন।

বিজেপির এই ঘরোয়া কোন্দল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। তাদের প্রতিক্রিয়া, গোটা দল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত। এটা বিজেপির গোয়ালঘরের গুঁতোগুঁতি। এরা নাকি তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করবে! বাংলার মানুষ সব দেখছে। শুভেন্দু, সুকান্ত, দিলীপ, বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত বিজেপি ঐক্যবদ্ধ তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের উন্নয়নের কাছে আগামী নির্বাচনে খড়কুটোর মত ভেসে যাবে। এই গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা তারই লক্ষণ। দিলীপ ঘোষ এই ঘটনার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি অনুষ্ঠান করে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। তিনি এই বিষয়টা পরে শুনেছেন। আর জেলা সভাপতিকে বলেছেন যে বিষয়টা ঘটেছে, সেই বিষয়ে সঠিকভাবে খোঁজখবর নিতে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement