নৃশংস! চাষের জমিতে ঢুকেছিল অবলা ষাড়। সেই অভিযোগ তুলে অবলা জীবের পায়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ। রক্তাক্ত ওই অবলার জখম গুরুতর। এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার ফুলিয়ায়। ঘটনায় অভিযুক্ত এলাকার বিজেপি নেতা ও কর্মী! বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দু'জনেই ঘটনার পর থেকে পলাতক। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ফুলিয়া অঞ্চলের নবলা পঞ্চায়েতের তালতলা এলাকায় বাড়ি অভিযুক্তদের। ওই এলাকাতেই একটি জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন রাখাল দাস। অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই জমিতে গবাদি পশু ঢুকে পড়ে। ওইসব পশুদের জমি থেকে তাড়ানোও হত। অভিযোগ, আজ, মঙ্গলবার সকালে একটি ষাঢ় ওই জমিতে ঢুকে পড়েছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে সেটির পায়ে কোপ মারেন রাখাল! এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ওই অবলা প্রাণীটি জমিতে ঢুকেছিল কিনা, সেটা নিশ্চিত নয়। তবে কোনও প্রাণী ঢুকে পড়লে সেটিকে প্রায়শই মারধর করে তাড়ানো হত।
স্থানীয়দের দাবি, রাখাল দাস ৪২ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি ও একাধিক বুথের কনভেনর হিসেবে যুক্ত। রুহি দাসও বিজেপি সমর্থক। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, আচমকাই ওই ষাঁড়টিকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে প্রাণীটি। এরপরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালান। স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। ষাড়ের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান সুদীপ প্রামাণিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তাপস ঘোষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি।
অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, একটি নিরীহ প্রাণীর উপর এ ধরনের বর্বরতা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চায়নি।
