চলতি বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। এবার বাংলায় সরকার গড়বে বিজেপিই। বারাকপুরের সভা থেকে বিজেপি কর্মীদের টার্গেট বেঁধে দিলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। বাংলায় এবার ৪৫ শতাংশের বেশি ভোট বিজেপিকে পেতে হবে। এবার ৫০ শতাংশ আসন বিজেপি রাজ্যে পাবে। সেই কথা জোর গলায় দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারের এবার পতন হবে। তৃণমূলকে বাংলা থেকে উৎখাত করার ডাক দিয়েছেন শাহ। শুধু তাই নয়, বিজেপি বাংলায় সরকারে এলে ৪৫ দিনের মধ্যে রাজ্যের সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর কাজ শেষ হবে। সেই কথাও জানিয়েছেন শাহ।
বারাকপুরের আনন্দপুরীর মাঠে এদিন কর্মিসভা করেন অমিত শাহ (Amit Shah)। শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে চড়া সুরে আক্রমণ করতে থাকেন তিনি। ক্রমে সেই সুর আরও তীব্র হয়। বাংলায় তৃণমূল ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি করছে। আরও একবার সেই অভিযোগ করেন তিনি। বাংলার 'মা-মাটি-মানুষের' সরকারের শাসনে, মায়েরা নিরাপদ নন। মাটিতে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তারা জায়গা দখল করছে। অন্যদিকে মানুষজন সিন্ডিকেটের কবলে। এমনই কটাক্ষ করেছেন শাহ। বাংলার অনেক জায়গার সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না। এদিন সেই অভিযোগও করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলার অনুপ্রবেশ ইস্যু গোটা দেশের কাছেই দুশ্চিন্তার। সেই কথাও তিনি জানিয়েছেন। এদিন শাহ বলেন, "লোকসভায় আমি বলেছিলাম ফেন্সিংয়ের জন্য রাজ্য সেই জায়গা দিচ্ছে না। এবার কলকাতা হাই কোর্ট ৩১ মার্চের আগে বিএসএফকে জমি দিতে বলেছে। তাও ওরা কোর্টের এই নির্দেশ মানবে না। এপ্রিলে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসে ৪৫ দিনে ফেন্সিং করে দেবে।"
বাংলায় আগে দুটি আসনে জিতেছিল বিজেপি। ২০১৯ সালে একাধিক বিজেপি প্রার্থী ভোটে জিতে সাংসদ হন। গত বিধানভায় বিজেপির ৭৭ জন ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। এবার বাংলায় বিজেপির ভোট ৩৮ থেকে ৪৫ শতাংশ হবে। শুধু তাই নয়, তিনি বিজেপি কর্মীদের টার্গেটও বেঁধে দিলেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, "তৃণমূল দুর্নীতিকে সংস্থা করেছে। সব সীমা ছাড়িয়ে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এই সরকার চলতে পারে না। ১০ লক্ষ কোটি টাকা মোদিজি বাংলায় দিয়েছে। এই টাকা কোথায় গেল? তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়েছে, কাটমানি খেয়েছে।"
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'বন্দে মাতরম' রচনা করেছিলেন। সেই রচনার এবার দেড়শো বছর। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে দেশজুড়ে বন্দে মাতরমের উদযাপন হচ্ছে। কিন্তু তৃণমূল সাংসদরা সংসদে এর বিরোধিতা করছেন। অনুপ্রবেশকারীদের খুশি করতেই তৃণমূল এমন করছে। কটাক্ষ করেছেন শাহ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার অস্মিতাকে নষ্ট করছে। সেই খোঁচাও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
