কেন্দ্রের উদ্যোগে গ্রামাঞ্চলের আদিবাসী পড়ুয়াদের জন্য তৈরি একলব্য স্কুল নিয়ে ফের বিতর্ক। বিভিন্ন প্রকল্প চালু করে পিছু হঠা বা আর্থিক রাশ টানার উদাহরণ এক্ষেত্রেও সামনে এসেছে। এবার কেন্দ্রের সেই বঞ্চনাকে চ্যালেঞ্জ করেই পুরুলিয়ায় (Purulia) একলব্য স্কুল চালুর কাজে হাত দিয়েছে রাজ্য। ২ ফেব্রুয়ারি ওই স্কুল চালু হচ্ছে। বান্দোয়ানের পুনশ্যার ওই একলব্য স্কুল আপাতত মানবাজার ১ ব্লকের বারোমেশ্যা-রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনগর হাইস্কুলের একটি পড়ে থাকা আদিবাসী হোস্টেলে আপাতত ওই স্কুলের পঠন- পাঠন চলবে। এ বিষয়ে ফাইলে চূড়ান্ত সই করা হয়ে গিয়েছে। হয়ে গিয়েছে নিয়োগও। ৩৫ জন ছাত্র ও ৩৫ জন ছাত্রী মিলিয়ে মোট ৭০ জনকে নিয়ে ওই স্কুল চালু হচ্ছে। মানবাজার মহকুমাশাসক মানজার হোসেন আনজুম বলেন, "খুব শীঘ্রই ওই একলব্য স্কুল আমরা চালু করছি। রাজ্যের তরফে অনুমোদন মিলেছে।"
রাজ্যের পুরুলিয়া (Purulia), বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, জলপাইগুড়ি, বীরভূম, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং কালিম্পং জেলায় রয়েছে এই একলব্য স্কুল। ভারত সরকারের উপজাতি মন্ত্রণালয় এই বিশেষ আবাসিক শিক্ষা প্রকল্প চালু করে। যা মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী তফসিলি উপজাতি শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার জন্য। ১৯৯৭-৯৮ সালে চালু হওয়া এই বিদ্যালয়গুলোতে আবাসন, খাদ্য, বই ও পোশাকের সুব্যবস্থা রয়েছে। পেশাগত সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করাও এর লক্ষ্য। এর জন্য প্রথমে ৯০ শতাংশ টাকা কেন্দ্রের ও ১০ শতাংশ অর্থ রাজ্যের দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীকালে পরিস্থিতি বদলায়। এখন সব পরিকাঠামো রাজ্যকে গড়ে দিতে হয়। ফলে প্রায় ৪০ শতাশ খরচ রাজ্যের।
এবার কেন্দ্রের বঞ্চনাকে চ্যালেঞ্জ করেই পুরুলিয়ায় একলব্য স্কুল চালুর কাজে হাত দিয়েছে রাজ্য। ২ ফেব্রুয়ারি ওই স্কুল চালু হচ্ছে। বান্দোয়ানের পুনশ্যার ওই একলব্য স্কুল আপাতত মানবাজার ১ ব্লকের বারোমেশ্যা-রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনগর হাইস্কুলের একটি পড়ে থাকা আদিবাসী হোস্টেলে আপাতত ওই স্কুলের পঠন- পাঠন চলবে।
২০১৭ সালে প্রস্তাব থাকলেও ২০২২ সালে রাজ্যের কালিম্পং ও পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের পুনশ্যার দুটি স্কুলের অনুমোদন মেলে। কোনওক্রমে কালিম্পংয়েরটি চালু করা গেলেও বান্দোয়ানের ক্ষেত্রে জট পাকে। অথচ ২০২২ সালেই জমি চিহ্নিত করে রাজ্য প্রকল্পটি কেন্দ্রে পাঠায়। ১০ একর জমির উপর ওই স্কুল তৈরি হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পঠন পাঠন চলবে। থাকবে হোস্টেলের সুবিধা। চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে পঠন-পাঠন শুরুর কথা থাকলেও তা করা যায়নি। এ নিয়ে আদিবাসী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতি আন্দোলনে নামে। সংগঠনের সম্পাদক পার্শাল কিস্কু বলেন, ‘‘কেন্দ্র ও রাজ্য একে অপরের ঘাড়ে দায় ঠেলছে। আমরা এর মধ্যে ঢুকতে চাই না। প্রায় ৬৫ জন ভর্তি হয়েছে। ২ জানুয়ারি বুক ডে ছিল। কিন্তু পড়ুয়ারা বই পেল না। একটা শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হলে দায় কে নেবে?"
তৃণমূল সাংসদ কালীপদ সোরেনও বিষয়টি নিয়ে গত বছর মার্চে সংসদে প্রশ্ন তোলেন। তারপরও কেন্দ্র সাড়া দেয়নি। মেলেনি বরাদ্দও। শেষে রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর উদ্যোগী হয়। আর্থিক দায় মেনে নিয়েই স্কুলটি খোলা হচ্ছে। তৃণমূলের বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার নিজেই আর্থিক দায় নিয়ে স্কুলটি চালু করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই উদ্যোগ নিয়েছেন। ফাইল সই হয়ে গিয়েছে।’’ ফলে নয়া যাত্রা শুরু হবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির পড়ুয়াদের। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উপজাতিদের স্বার্থরক্ষায় এই উদ্যোগ।
