দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: ভরদুপুরে বিকট শব্দে কেঁপে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটি। বাজি কারখানার জন্য অতি পরিচিত এলাকা চম্পাহাটিতে তীব্র বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাজি কারখানার বড় অংশ। অন্তত চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের দু,একজনের শরীরের অধিকাংশই ঝলসে গিয়েছে। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারুইপুর পুলিশ জেলার বাহিনী, দমকল বাহিনী। এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের পরিবেশ।
চম্পাহাটির বাজি কারখানার আগুন নেভাতে তৎপর দমকল। ছবি: বিশ্বজিৎ নস্কর।
শনিবার ঘড়িতে সময় তখন দুপুর প্রায় ১টা। চম্পাহাটির বাজি কারখানায় কাজ চলছিল। তারই মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কারখানাটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, আচমকা অন্তত দু থেকে তিনবার বিকট শব্দ কানে আসে। তাঁরা সকলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন, অদূরে কারখানার একাংশ ধসে পড়েছে। অ্যাসেবস্টাস টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। পাশের আরও তিনটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারখানায় কাজের মাঝেই বিস্ফোরণ কাণ্ডে ৪ জনের শরীর আগুনে ঝলসে গিয়েছে। আহতদের নাম গৌর গঙ্গোপাধ্যায়, কিষাণ মণ্ডল, রাহুল মণ্ডল। আরেকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাঁদের বারুইপুর ও কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, এদিন দুপুরে বিকট শব্দ কানে আসে অন্তত ২, ৩ বার। তাঁরা বেরিয়ে দেখেন, বাজি তৈরির একটি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিধান মণ্ডল নামে একজন ওই কারখানার মালিক। প্রশ্ন উঠছে, ওই বাজি কারখানার লাইসেন্স ছিল কি না। তার তদন্তে নেমেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। বিস্ফোরণস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, বিয়েবাড়ির জন্য এখানে বাজি তৈরি হচ্ছিল। অদক্ষ হাতে মশলা নিয়ে নড়াচড়ার করার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান।এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও চম্পাহাটিতে এভাবেই বাজি তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেই আতঙ্ক ফিরল নতুন বছরের শুরুতে।
