নৃশংস হত্যাকাণ্ড উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায়। যুবককে খুনের পর দেহ টুকরো টুকরো করে তিনটি খালে ফেলার অভিযোগ স্থানীয় বিএলওর বিরুদ্ধে। খাল থেকে প্যাকেট বন্দি দেহাংশগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার বিএলও ও তাঁর এক সহযোগী। বিএলওর স্ত্রীর সঙ্গে যুবকের সম্পর্ক থাকায় এসআইআরের কাগজ দেখানোর নামে ডেকে এনে খুন বলে প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মৃত যুবকের নাম নাসির আলি। তিনি বসিরহাটের বাদুড়িয়া থানার চাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাপিলা গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। দিন পাঁচেক ধরে নিখোঁজ ছিলেন নাসির। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় বুথের বিএলও রিজয়ান হাসান মণ্ডল তাঁকে এসআইআর নথি সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলেন। নথি নিয়ে দ্রুত লালকুঠি এলাকায় ডাকেন।
তারপরই প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে মোটরসাইকেল করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নাসির। সেই থেকে আর খোঁজ মেলেনি। পরিবার থানায় নিখোঁজ অভিযোগ জানায়। বিশেষ তদন্তকারী দলগঠন করে তদন্তে নামে পুলিশ। তারপরই চাতরা এলাকার যমুনা নদী থেকে নাসিরের মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়। এই খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। গ্রামবাসীরা পথ অবরোধ করেন।
এদিকে বিএলও নিজেও ঘটনার দিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন। অভিযান চালিয়ে পুলিশ রিজুয়ান হাসান মণ্ডলকে স্বরূপনগরের তেঁতুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি সাগর গাইন নামে এক যুবককে রামপুরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে হাড়হিম তথ্য। পুলিশের দাবি, জেরায় অভিযুক্তরা জানায় নাসিরকে তাঁরা খুন করেছে। দেহ ফেলা হয়েছে এলাকার ৩টি খালে। সেই ভিত্তিতেই শুক্রবার রাতে এলাকার বিভিন্ন খালে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে প্লাস্টিক বন্দি দেহাংশগুলি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
