গতকাল, সোমবার সন্ধ্যায় মসজিদে নমাজ পড়তে যাওয়ার পর থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না! এদিন দুপুরে চাষের জমিতে মিলল ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর গলাকাটা দেহ! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়ায়। মৃতের নাম সাহিন মণ্ডল। সাগরপাড়া থানার পাঁজরাপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। পুলিশের কাছে গতকাল রাতে ওই ছাত্রের পরিবার গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তেমন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। এদিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষোভ ছড়ায়। মৃতদেহ বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় মৃতের পরিবারের লোকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ১৬ বয়সের কিশোর সীতানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা তার। গতকাল, সোমবার সন্ধ্যা থেকে সাহিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেছিলেন। কিন্তু কোথাও ওই কিশোরের খোঁজ মেলেনি। এদিন বেলা ১২টা নাগাদ মাঠে পেঁয়াজ ও সর্ষেখেতের আলে তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলাকাটা ছিল! ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা, ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে আত্মীয় পরিজন, বন্ধুবান্ধব সব জায়গায় সাহিন মণ্ডলের খোঁজ করে কোথাও না পেয়ে রাত দুটো নাগাদ সাগরপাড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে যান। অভিযোগ, রাতে থানায় কর্তব্যরত পুলিশ ডায়েরি নেয়নি। সোমবার সকালে গেলে পুলিশ জানায় বাবা-মা না আসলে অভিযোগ নেওয়া হবে না। এভাবে একাধিক বার বাড়ির লোকজনকে ঘোরানো হয়েছে! এর কিছু সময় পরেই ওই 'খুনে'র ঘটনা সামনে আসে।
ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে পরিবারের লোকজন ও গ্রামের মানুষজন বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে মৃতদেহ আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ! বিক্ষোভের জেরে দেহ তুলতেও পারেনি পুলিশ। পুলিশের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ দেখান মৃতের মা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ সোমবার রাতে পুলিশ নিখোঁজ ডায়েরি নিলনা কেন? দ্বিতীয়ত অবিলম্বে খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে। মৃতের মামা সেতাবউদ্দিন শেখ বলেন, "ভাগ্নের কোনও শত্রু আছে বলে জানা নেই। ভাগ্নে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, পড়াশোনার বাইরে তেমন কোথাও বেরোয় না। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাছেই মসজিদে নমাজ পড়ার পর থেকে নিখোঁজ হয়।"
