shono
Advertisement
Howrah Jute Mill

মূল্যবৃদ্ধির জেরে বন্ধ হাওড়ার জুট মিল, ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব কর্মহীন ৪০০০ শ্রমিক

আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার শিফট থেকে মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মে নোটিসও মিলের গেটে টাঙানো হয়েছে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 03:45 PM Jan 20, 2026Updated: 04:15 PM Jan 20, 2026

কাঁচা পাটের চরম সঙ্কট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি-সহ একাধিক কারণে বন্ধ হয়ে গেল বাউড়িয়ার প্রেম চাঁদ জুট মিল (Howrah Jute Mill) কর্তৃপক্ষ। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার শিফট থেকে মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মে নোটিসও মিলের গেটে টাঙানো হয়েছে। এর ফলে প্রায় চার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়লেন। শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, কর্তৃপক্ষ আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখের পর কারখানা খোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু তাতে আস্থা নেই শ্রমিকদের। তাঁদের দাবি, মিল কার্যত বন্ধই করে দেওয়া হল।

Advertisement

বাউড়িয়ার চটকলগুলির মধ্যে অন্যতম বড় চটকল এই প্রেমচাঁদ চটকল। এখানে চার হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। শ্রমিকদের দাবি, মিলটা ভালোই চলছিল। যদিও মালিক কর্তৃপক্ষের দাবি, মিলে একাধিক সমস্যায় ভুগছিল। কাঁচা পাট পাওয়ার ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিয়েছিল, তার ওপর আকাশছোঁয়া দাম এবং নগদ টাকায় ও উন্নতমানের কাঁচা পাট সহজলভ্য না হওয়ার চটকলটি। এতে মিলের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল। এছাড়া এখানে কনভেনশনাল তাঁত বিভাগ থাকায় উৎপাদন কম হচ্ছিল কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বেশি হয়ে যাচ্ছিল। তাই তারা সাময়িকভাবে আগামী ২৩ শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিলটি বন্ধ রাখছে। সমস্যা মিটলে তারা এই মিলটি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করবে।

তবে মিল বন্ধ থাকায় শ্রমিকরাও বেতন পাবে না। তবে ফিনিশিং ডিপার্টমেন্ট বেল গোডাউন এবং এর সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুলির কাজ, কাঁচা পাটের মজুত ও কাঁচা পাটের গাড়ি খালাস করার কাজ সহ বিভিন্ন বিভাগের কাজ প্রয়োজন অনুযায়ী চালু থাকবে। যদিও শ্রমিক সংগঠনগুলো মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহমত নয়। তাদের বক্তব্য, যেসব কারণ দেখিয়ে মিল বন্ধ করা হয়েছে তা যথাযথ নয়। তাছাড়া মিল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ষড়যন্ত্র করেছে মিল কর্তৃপক্ষ।

ওই মিলের টিইউসিসির নেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ''নিছক মিল বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র রয়েছে মিল কর্তৃপক্ষের। যদি মিলে পাটের অপ্রতুলতা হত তাহলে অন্যান্য মিলগুলি চলছে কিভাবে? তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা মন্টু শাসমল বলেন, ''কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল নীতি এবং মিল কর্তৃপক্ষের ভুল পদক্ষেপের কারণে আজকে মিলটি সমস্যায় পড়ল। একদিকে কাঁচা পাটের দাম বাড়ানো হয়েছে কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে মিল কর্তৃপক্ষ যে কনভেনশনাল তাঁত ব্যবস্থার কথা বলছে এটা বাহানা মাত্র। আমাদের মাত্র ১০০ টি এরকম কনভেনশনাল তাঁত রয়েছে। তাতে মিল বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি নয়।'' তৃণমূল নেতার কথায়, ''এক্ষেত্রে মিল কর্তৃপক্ষের ভুল পরিকল্পনা দায়ী। সঠিক সময় তারা পাট তোলেনি। এখন দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছে। এক মাসের নোটিস দিলেও এদের উদ্দেশ্য মিলটা বন্ধ করে দেওয়া। আমরা বিষয়টা উচ্চতর দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছি। তারা বিষয়টা দেখছেন।''

এই ব্যাপারে মিলের পার্সোনাল ম্যানেজার এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের কর্তা প্রণব চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে ফোনের সুইচড অফ ছিল। মেসেজ পাঠালেও তার কোন উত্তর দেননি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement