সম্প্রতি দিল্লিতে একাধিক আদালতের বিস্ফোরণের হুমকিতে (Court Bomb Threat) আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। পরে জানা গিয়েছিল সেসবই ছিল উড়ো হুমকি। এবার দিল্লির কায়দায় রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে এল হুমকি ইমেল। কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্ট, চুঁচুড়া, দুর্গাপুর, আসানসোল, বহরমপুর, কাঁথি আদালত চত্বরে এই হুমকি ইমেল এসেছে বলে খবর। ঘটনা জানাজানির পরই ওইসব আদালত চত্বর ফাঁকা করে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। বম্ব স্কোয়াড ও স্নিফার ডগ অল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। কারা এই হুমকি ইমেল দিল? নিছক মজা নাকি নাশকতার ছক? সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।
এদিন দুপুরে সাংবাদিকের মুখোমুখি হন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযুষ পাণ্ডে, কলকাতার নগরপাল সুপ্রতিম সরকার। রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিচারকদের নিরাপত্তার সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। কে বা কারা এই ইমেল করেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। সাইবার ক্রাইম বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইমেলের উৎস বার করার চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষ ও আইনজীবী, বিচারকদের নিরাপত্তার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
অতি সম্প্রতি দিল্লিতে আদালত উড়িয়ে দেওয়ার একাধিক হুমকি এসেছিল। জঙ্গিদের নিশানায় দিল্লির বিচারভবন? সেই প্রশ্ন উঠেছিল। পুলিশ-প্রশাসন, বম্ব স্কোয়াড, স্নিফার ডগ দিয়ে তল্লাশি চলেছিল। কিন্তু কোনও বোম বা বিস্ফোরণের কোনও কিছুই পাওয়া যায়নি। 'ভুয়ো হুমকি' দেওয়া হয়েছিল বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছিল। এবার সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলার একাধিক আদালতে বোমাতঙ্ক (Court Bomb Threat) ছড়ায়। আদালত চত্বর উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় আদালতে!
খালি করা হচ্ছে আদালত। নিজস্ব চিত্র
জানা গিয়েছে, কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হুমকি ইমেল আসে। সেই ইমেল আসার পরেই আদালত চত্বর ফাঁকা করে দেওয়া হয়। পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায়। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। এই পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, রাজ্যের একাধিক আদালতে একইভাবে হুমকি ইমেল এসেছে! বেলা গড়াতেই জানা যায় চুঁচুড়া, দুর্গাপুর, আসানসোল, বহরমপুর, কাঁথি-সহ একাধিক আদালতে এই হুমকি ইমেল এসেছে। প্রতিটি ইমেলেরই বয়ান, আদালতের বিশেষ জায়গায় বোমা রাখা রয়েছে।
দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ঘিরে ফেলা হয় ওইসব আদালত চত্বর। মাইকিং করে আইনজীবি, আদালতের কর্মী, সাধারণ মানুষদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। স্নিফার ডগ দিয়ে আদালতগুলিতে শুরু হয় তল্লাশি। বম্ব স্কোয়াডের কর্মীরাও সেখানে কাজ শুরু করে। দুপুর পর্যন্ত কোনও আদালত থেকেই বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
