এবার কোন্নগরে চলল বুলডোজার। ভেঙে দেওয়া হল টোল আদায়ের অফিস। বিধায়ক দাঁড়িয়ে থেকে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দিলেন টোল আদায়ের অফিস। কবে এলাকার বেআইনি বহুতল এর অবৈধ অংশও ভাঙা হবে প্রশ্ন এলাকার মানুষের?
স্থানীয়দের দাবি, কোন্নগর রেল স্টেশনে আন্ডারপাসে টোল গেট বসিয়ে টাকা তোলা হত। উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর দীপাঞ্জন চক্রবর্তী কোন্নগর পুরসভায় গিয়ে টোল আদায়ের অনুমতি সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। বিধায়ক জানান,পুরসভা কোন কাগজ দেখাতে পারেনি। আন্ডারপাসে টোল আদায়ের জন্য ২০০৮ সালে লিজ দেওয়া হয়। তারপর সেই অনুমোদন পত্র রিনিউ করা হয়নি। এইভাবেই চলছিল এতদিন টোল আদায়। অনুমোদনহীন যত টোল আছে তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার।
তারপরেই বিধায়ক কোন্নগর আন্ডারপাসের টোল আদায় বন্ধ করতে বলেন পুলিশকে। শুক্রবার বুলডোজার চালিয়ে যে অফিস থেকে তোল আদায় করা হত আন্ডারপাসের সামনের সেই অফিস ভেঙে দেওয়া হয়। বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, "উত্তরপাড়ায় এই শুরু হল কোনও বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। বেআইনি পার্টিঅফিস হোক বা বাড়ি সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
যেকোনও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বর্তমান রাজ্য সরকারের। তিলজলা থেকে হাওড়া সর্বত্র বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে তৎপর পুরসভা। সম্প্রতি গড়িয়া শ্মশানের কাছে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’। ওই এলাকায় থাকা একাধিক মূর্তি ভাঙে পুরসভা। এর আগে গড়িয়ার মিতালি সংঘের পাশের মাঠের ক্লক টাওয়ার ভাঙতে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ করে পুরসভা। ২০২৩ সালে গড়িয়ার মিতালি সংঘের মাঠের পাশের এই ক্লক টাওয়ার তৈরি হয়। তৎকালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এই ক্লক টাওয়ার তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগী ছিলেন বলেই দাবি স্থানীয়দের। এমনকী ক্লক টাওয়ারের সামনে নাকি আজও জ্বলজ্বল করছে প্রাক্তন মন্ত্রীর ছবি। অভিযোগ, বেআইনিভাবে কার্যত গায়ের জোর দেখিয়ে সেই সময় ক্লক টাওয়ারটি তৈরি হয়েছিল। তা নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এলাকায়। অসন্তোষের জল গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। আদালতের তরফে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশিকা জারি হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সময় আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়। কাউন্সিলরের নির্দেশে বেশ কয়েকজন মহিলা আন্দোলনে শামিল হন বলেই দাবি স্থানীয়দের। তবে সরকারের পালাবদলের পর ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ করে পুরসভা।
