তিনি বরাবরই পিছনের সারিতে। অথচ এই সাফল্যের পিছনে তিনিই আসল মাথা। ইমামি-র বিভাস আগরওয়াল। বরাবরই প্রচারে বাইরে। কিন্তু এদিন 'সংবাদ প্রতিদিন'-কে আর এড়িয়ে থাকতে পারলেন না।
প্রশ্ন: এটাই কি জীবনের সবচেয়ে খুশির মুহূর্ত?
বিভাস: অফকোর্স। সুপার কাপ জিতেও আনন্দ পেয়েছিলাম। কিন্তু আজকের রাতের সঙ্গে তার তুলনা চলে না। এই রাত। সমর্থকদের এই বাঁধন ছাড়া উচ্ছ্বাস। এই মুহূর্ত কোনওদিন ভুলতে পারব না।
প্রশ্ন: ইস্টবেঙ্গল আইএসএলে যুক্ত হওয়ার পর থেকে শুধুই লিগে টেবলের শেষের দিকে। এতদিন পর্যন্ত টার্গেট ছিল, প্রথম ছয়ে থাকা। সেই ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন। কখনও ভেবেছিলেন?
উত্তর: ইমামির বাজারে একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে। যে সংস্থার সঙ্গে ইমামির নাম যুক্ত, সেই সংস্থাকে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। প্রথম বছর থেকে আমাদের নিয়ে অনেকরকম গুজব রটেছে। কিন্তু দিনের শেষে ইস্টবেঙ্গলকে আমরা চ্যাম্পিয়ন করতে পেরেছি।
ইমামির বাজারে একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে। যে সংস্থার সঙ্গে ইমামির নাম যুক্ত, সেই সংস্থাকে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। প্রথম বছর থেকে আমাদের নিয়ে অনেকরকম গুজব রটেছে। কিন্তু দিনের শেষে ইস্টবেঙ্গলকে আমরা চ্যাম্পিয়ন করতে পেরেছি।
প্রশ্ন: কী রকম গুজবের কথা বলতে চাইছেন?
বিভাস: এই যে প্রতি বছরই রটে, ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে ইমামি চলে যাচ্ছে। এটা পরিকল্পিতভাবে রটানো হয় দলের মনোবল ভেঙে দিতে। এবারও ডার্বির ঠিক দু'দিন আগে থেকে প্রচার হল, আমরা আর পরের মরশুমে নেই। প্রত্যেকবার যখন লিগ টেবলের নিচের দিকে থাকি, তখন আমাদের সরে যাওয়ার কথা রটানো হয়। এবার চ্যাম্পিয়নশিপে থেকে শুনেছি। এটাই যা পার্থক্য।
প্রশ্ন: কিন্তু ক্লাবের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই তো ইনভেস্টরের গণ্ডগোল হয়?
বিভাস: আপনার পরিবারে গণ্ডগোল হয় না? ক্লাবের সঙ্গে মিলে আমরা একটা দল চালাচ্ছি, যেখানে এত মানুষের আবেগ জড়িয়ে। চলার পথে গন্ডগোল হবে না? সমস্যা হবে। আবার মিটেও যাবে।
প্রশ্ন: সাফল্য পাওয়ার এই দলটা কে তৈরি করেছে?
বিভাস: দেখুন, ক্লাব এবং আমাদের মিলিয়ে পাঁচজনের একটা কমিটি রয়েছে কিন্তু শেষ কথা বলেন কোচ অস্কার ব্রুজো। থাংবোই সিংটো টেকনিক্যাল দিক দেখেন। কিন্তু অস্কার যদি রাজি না হন, তাহলে কারও ক্ষমতা নেই কাউকে দলে নেওয়ার। কারণ, টেকনিক্যাল ব্যাপারটা আমাদের থেকে থাংবোই এবং অস্কার বেশি ভালো বোঝেন।
প্রশ্ন: তাহলে দেবব্রত সরকার, মানে নীতুদা'র ভূমিকাটা কী?
বিভাস: আমাদের যা হয়, নীতুদা'কে সঙ্গে রেখেই হয়। উনি এই জয়ের অন্যতম কারিগর। ক্লাবের তরফে নীতুদা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অনেকে সেটা জানেন না বলেই আমাদের মধ্যে বিরোধ দেখতে পান।
প্রশ্ন: কোচ আগের দিন জানিয়ে ছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লেখা টি-শার্ট নিয়ে মাঠে না আসতে। আজকে তো দেখলাম, ম্যাচ শেষে সবাই সেই টি-শার্ট পরে ঘুরছেন।
বিভাস: সত্যিই আমি কিছুই জানতাম না। সবই অপারেশন টিম দেখেছে। দেখছেন না, আমার টি-শার্টটা কী টাইট হয়েছে (বড় হাসি)।
প্রশ্ন: ট্রফি ইমামির ক্যাবিনেটে থাকবে না কি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে থাকবে?
বিভাস: অবশ্যই ক্লাবে থাকবে। ট্রফি তো ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের জন্য। ক্লাবে থাকলে তবেই তো সমর্থকরা নিজেদের ট্রফি ভাবতে পারবেন।
প্রশ্ন: কোচ অস্কার কি পরের মরশুমেও থাকবেন?
বিভাস: আইএসএল হলে আমাদের তো অস্কারকে রাখতে কোনও সমস্য নেই। কিন্তু পরের মরশুমে আইএসএল কবে হবে, কিছুই জানি না। এই অবস্থায় অস্কারকে কীভাবে পরের মরশুমের জন্য চুক্তি করতে বলব?
প্রশ্ন: এই বিশাল সাফল্য কাকে উৎসর্গ করবেন?
বিভাস: অবশ্যই কোচ, ফুটবলার এবং লক্ষ-লক্ষ ইস্টবেঙ্গল সমর্থককে। সঙ্গে আমার পিতামহকে।
আইএসএল হলে আমাদের তো অস্কারকে রাখতে কোনও সমস্য নেই। কিন্তু পরের মরশুমে আইএসএল কবে হবে, কিছুই জানি না। এই অবস্থায় অস্কারকে কীভাবে পরের মরশুমের জন্য চুক্তি করতে বলব?
প্রশ্ন: ফুটবলারদের জন্য কোনও পুরস্কার ঘোষণা করলেন?
বিভাস: সময় পেলাম কোথায়? যা টেনশনে ছিলাম। কোচের আলোচনা করেই ঘোষণা করব। এখন সবাইকে আনন্দ করতে দিন। সত্যি আজ মাঠে যেভাবে আমাদের সমর্থকরা আনন্দ করছিলেন, আমার জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত। এই মুহূর্তের সঙ্গী হওয়ার জন্যই ইমামি ফুটবলে এসেছে। তবে এই এক বছরে সাফল্য পেয়েই ইমামি থামতে চায় না। টানা এই সাফল্য পেতে হবে।
