নন্দন দত্ত: দেওয়াল লিখে বিপাকে তৃণমূল। বিরোধী শূন্য হয়ে ব্লকে জয়ী হয়েছিল শাসক দল। সেই আনন্দে দেওয়ালে লিখে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছিল ‘ভোটার ভগবানকে’। এদিকে, হাই কোর্টের রায়ে পিছিয়ে গিয়েছে ভোট। ফের মনোনয়ন পর্ব শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফলে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে সিউড়ি দুই ব্লকের তৃণমূল কর্মীরা। এখন কী হবে, তা নিয়ে শুক্রবার রায় ঘোষণার পরই বৈঠকে বসেন নেতারা। ব্লকের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, কেউ কেউ অতি উৎসাহে লিখে ফেলেছেন। তবে দেওয়াল লিখন যখন হয়ে গিয়েছে তখন সেই ফলাফলটা এলাকার মানুষ আমাদের হাতে তুলে দেবেন।
‘বিজয়ী’ ও ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ এই স্লোগান গত এক সপ্তাহ ধরে চলছিল। বিশেষ করে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের জেলায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে মনোনয়নই দিতে পারেননি বিরোধীরা। তারই জেরে প্রচারের প্রয়োজন হয়নি। তা বলে নির্বাচন পর্বে দেওয়াল লিখন হবে না! তাই অভ্যাস বজায় রাখতে দেওয়ালে আগাম জয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেন তৃণমূল কর্মীরা। আর তাকে ঘিরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
[কবে পঞ্চায়েত ভোট? নয়া নির্ঘণ্ট নিয়ে অব্যাহত জটিলতা]
আগে ভোট এলেই দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে যেত। তারও আগে রাত জেগে ‘সাইট ফর’ করতে হত। দেওয়াল দখলের রাজনীতি থেকে শুরু হত এলাকার দখলদারি। রকমারি কার্টুন, ছড়া আর তার সঙ্গে প্রার্থীর নামের পাশের দলের প্রতীক। বছর ভর খসখসে রং চটে যাওয়া বাড়ির পাঁচিল গুলি সেজে ওঠে রাজনৈতিক দলগুলির সৌজন্যে। ব্যতিক্রম হয়নি ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনেও। কমিশন প্রথম পর্বে নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি করতেই সব দলই গ্রামে গঞ্জে দেওয়াল দখলের লড়াইয়ে নেমে পড়ে। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই আঁকা হয়েছিল দলীয় প্রতীক। কিন্তু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে কী লেখা হবে। তা নিয়ে শাসক দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়।
[বাড়াতে হবে মনোনয়নের দিন, নয়া ভোট নির্ঘণ্ট প্রকাশের নির্দেশ আদালতের]
শুক্রবার আদালতের রায় বের হতেই ফের সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সিউড়ির জেলা তৃণমূল ভবনে বিকাশ রায়চৌধুরি, অভিজিৎ সিংহ, নুরুল ইসলাম-সহ জেলা তৃণমূল নেতারা বৈঠকে বসেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দলে যাঁরা চূড়ান্ত প্রার্থী ছিলেন তাঁদের নাম লেখা হয়েছিল। তাদেরই নামের আগে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’, কোথাও আবার ‘বিজয়ী’ লেখা হয়েছিল। সেই সঙ্গে দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে পাশে থাকার জন্য শাসক দল ধন্যবাদ জানিয়েছিল ‘ভোটার ভগবান’কে। কিন্তু আদালতের রায়ের পর কী হবে? আবার কি বিজয়ীর জায়গায় প্রার্থী লেখা হবে? ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, বিজয়ী যখন লেখা হয়ে গিয়েছে তখন আর মোছা হবে না। এবার নির্বাচনে ওটাই প্রকৃত দেওয়াল লিখন।
ছবি: বাসুদেব ঘোষ
[পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কথা তুলে ময়ূরেশ্বরে বিতর্কিত পোস্টার]
The post পঞ্চায়েতে ‘জয়ী’র নামে দেওয়াল লিখন তৃণমূলের, হাই কোর্টের রায়ে বাড়ল জটিলতা appeared first on Sangbad Pratidin.
