মাছের গাড়ি থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকার তোলার অভিযোগ! যা নিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে পুলিশকে তোপ দাগেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাকে (Ashok Dinda)। আর এহেন মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। এরপরেই আইনি প্যাঁচে বিজেপি বিধায়ক। বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ময়না থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল পুলিশ। একইসঙ্গে ময়না থানায় তলবও করা হয়েছে তাঁকে। পাঠানো হয়েছে নোটিসও। যা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে এক্ষেত্রে পুলিশের ব্যাখ্যা, সম্মানের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করি। চেয়ারকে এভাবে অপমান করা বাজে প্রবণতা।
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় অবস্থিত মৎস্য হাব পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যা রাজ্যের মাছের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে। রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল বিজেপির অভিযোগ ছিল, ময়নায় আসা-যাওয়া মাছের গাড়ি থেকে টাকা তোলে পুলিশ! সম্প্রতি ময়নায় বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভামঞ্চ থেকে ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ''মৎস্যজীবীদের গাড়ি থেকে যে হারে টাকা তোলে পুলিশ, সেই রেকর্ড ভিডিও সব রয়েছে। সন্ধ্যা হলেই স্কুটি নিয়ে তিনজন পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে। প্রত্যেক মাছের গাড়ি থেকে ১০০, ২০০ টাকা তোলা হচ্ছে। ৫০ শতাংশ থানায় থাকছে আর বাকি ৫০ শতাংশ এসপি নিচ্ছেন।'' এমনকী 'কালীঘাটে'ও টাকার ভাগ যাচ্ছে বলেও বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক। এমন দাবি ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বিধায়কের মন্তব্য মোটেই ভালো চোখে দেখেনি পুলিশ প্রশাসন। জানা গিয়েছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে নোটিশ পাঠানো হয় ময়নার বিধায়কের কাছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন দে বলেন, ''ময়নার বিধায়কের একটি ভিডিও ক্লিপ আমাদের নজরে আসে। যেখানে বলা হচ্ছে এসপি পূর্ব মেদিনীপুর বিশেষ পেশার মানুষের কাছ থেকে মাসোহারা নেন। এরপরেই কোর্টের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'' তাঁর কথায়, আমাদের কাছে সম্মানটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নোটিস পাঠানো হলেও এদিন অশোক দিন্দা (Ashok Dinda) হাজিরা দিচ্ছেন না বলেই খবর। পালটা আইনজীবী মারফৎ পুলিশকে চিঠি দিয়ে সময় তিনি চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ''অশোক দিন্দাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। উনি আসবেন কিন্তু সময় চেয়েছেন।''
