মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে এবার প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্লেষণে জোর দিল সিবিআই। তদন্তের দ্বিতীয় দিনে বুধবার ফের মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল। সঙ্গে আনা হয় অত্যাধুনিক থ্রিডি স্ক্যানার। গোটা এলাকা ডিজিটাল ম্যাপিং করে আততায়ীদের অবস্থান, গাড়ির দূরত্ব এবং হামলার পর পালানোর সম্ভাব্য রুট বিশ্লেষণ করেন তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর বুধবার ফের ঘটনাস্থলে নামে সিবিআইয়ের পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল। সকালেই গোটা এলাকা ঘিরে ব্যারিকেড করা হয়। কিছু সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা হয় সাধারণ মানুষের যাতায়াতও। দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তার মাপজোক, গাড়ির অবস্থান, সম্ভাব্য শুটিং পজিশন এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। থ্রিডি স্ক্যানারের মাধ্যমে পুরো এলাকার ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে হামলার মুহূর্ত পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, ঘটনার দিন দোহারিয়া পেয়ারাবাগান এলাকায় রাস্তার ধারে আগে থেকেই ওত পেতে দাঁড়িয়ে ছিল সিলভার রঙের গাড়িটি। চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি সেখানে পৌঁছতেই সেটিকে আটকে খুব কাছ থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পরপর গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দা এবং একটি বহুতলের বাসিন্দাদের সঙ্গে এনিয়ে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেছে সিবিআই। সূত্রের দাবি, হামলাকারীরা কোন দিক থেকে এসেছিল, কতক্ষণ এলাকায় ছিল এবং ঠিক কোথা থেকে গুলি চালানো হয়েছিল, তা স্পষ্টভাবে বোঝার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে আততায়ীদের পালানোর সম্ভাব্য রুটও।
ইতিমধ্যেই এই খুনের তদন্তে একাধিক শার্প শ্যুটারকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের সিট। বালি টোল প্লাজার ফাস্ট্যাগের ইউপিআই লেনদেনের সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের গতিবিধি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। পরে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং রাজ সিংকে। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে সিবিআই। তদন্তকারীদের নজর এখন মূলত সুপারির টাকার উৎস, অস্ত্র সরবরাহ চক্র এবং নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের দিকে।
