মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গুরের সম্পর্ক কতটা গভীর তা কারও অজানা নয়। ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের কৃষকের কাছে ত্রাতা রূপে ধরা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর পেরিয়েছে ২০ বছর। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার পিছনে সিঙ্গুর আন্দোলনের বড় ভূমিকা রয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞমহলের। তাই বুধে সেই সিঙ্গুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন, স্বাভাবিকভাবেই সেদিকে নজর ছিল সকলের। এদিন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সিঙ্গুরে রাজ্য সরকার কী কী করেছে সেই খতিয়ানই তুলে ধরলেন মমতা। জানালেন, ৮ একর জমির উপর সিঙ্গুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হয়েছে। এদিন ফের টাটা ইস্যু উসকে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, "শিল্প হবে তবে কৃষি জমিতে নয়।"
সিঙ্গুরে মমতা।
দু’দশক পর ভোটমুখী বাংলার নজরে সিঙ্গুর! কয়েকদিন আগেই সভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু শিল্প নিয়ে একটা কথাও বলেননি তিনি। যা নিয়ে আশাহত সেখানকার মানুষ। সেই আবহে আজ, বুধবার সেই সিঙ্গুর থেকেই একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস, সরকারি পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি রাজনৈতিক সভাও করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের স্মৃতিচারণা করলেন তিনি। মনে করিয়ে দিলেন, ২৬ দিন অনশনের কথা। কৃষি জমি বাঁচাতে তাঁর লড়াইয়ের কথা। বাম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা ফসলি জমি অধিগ্রহণ করে শিল্প আনতে চেয়েছিল। তার প্রতিবাদ করেছিলেন অনিচ্ছুক কৃষকরা। ঘরের মেয়ের মতো তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে পিছু হটে টাটা। তারপর পেরিয়েছে বহু বছর। বুধবার সেই সিঙ্গুরেই ৮ একর জমির উপর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হয়েছে বলে জানালেন মমতা। তবে স্পষ্ট করে দিলেন যে, কৃষি জমিকে কোনওভাবেই ব্যবহার করা হবে না শিল্পের জন্য।
এদিনের সভা থেকে কেন্দ্রকে একহাত নেন মমতা। বলেন, "সিঙ্গুরের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমি নিজেকে বাজি রেখেছিলাম। মরার জন্যও তৈরি ছিলাম। কথা দিয়েছিলাম, কথা রেখেছি। জমি ফিরিয়ে দিয়েছি। তোমরা কী করেছ? শুধু মুখে বড় বড় বুলি? একটা ইট কি পুঁতেছ? তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর লাইন আমি করে গিয়েছিলাম আর ওরা ফিতে কেটেছে। এর বেশি কিছু নয়। এই বুলি চলবে না বাংলায়।" বুঝিয়ে দিলেন বরাবরের মতোই সিঙ্গুরবাসীর পাশেই রয়েছেন মমতা।
