এসআইআরে ডাক পেয়েছিল পরিবার। শুনানি কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে বাইকে করে যাচ্ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। সঙ্গে ছিল তাঁদের দুই শিশু সন্তান। মুম্বই রোড ধরে যাওয়ার সময় ঘটল মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। লরির ধাক্কায় মারা গেলেন বাবা ও ছেলে-মেয়ে। মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার উলুবেড়িয়া এলাকায়। মৃতরা হলেন ৩২ বছর বয়সী শেখ সিরাজ ও ছয় বছরের শেখ রিয়াজ, চার বছরের রিয়া খাতুন। গুরুতর জখম স্ত্রী সাবিনা বেগম ওরফে জ্যোৎস্না। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার বেলা ১২ টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে চেকপোস্টের কাছে। ওই পরিবারের বাড়ি সাঁকরাইলে। যদিও তাঁরা বর্তমানে থাকতেন ধূলাগড় এলাকায়। শেখ রিয়াজ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। জ্যোৎস্নার বাপের বাড়ি বাগনানে। সেখানেই তাঁরা এদিন যাচ্ছিলেন। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে খবর, এদিন জ্যোৎস্না, স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বাইকে চেপে ধূলাগড় থেকে বাপেরবাড়ি হাটুরিয়ায় যাচ্ছিলেন। ধূলাগড়ে তাঁরা থাকলেও জ্যোৎস্নার ভোটের সমস্ত কাগজপত্র তাঁর বাপেরবাড়ি বাগনান ১ নম্বর ব্লকের হাটুরিয়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকায়।
তিনি এসআইআরের শুনানিতে আসছিলেন। তখনই ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, চেকপোস্টের কাছে সিগন্যালে তাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন। সিগন্যাল ছাড়তেই তাঁরা যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। অভিযোগ, সেইসময় পিছন থেকে একটি লরি এসে বাইকে ধাক্কা মারে। রিয়াজ বাইকে সামনে বসেছিল। সে ছিটকে গিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি লরিতে আটকে যায়! রাস্তার ডান দিকে পড়ে যান রিয়াজের বাবা সিরাজ এবং বোন রিয়া। সিরাজ ও রিয়ার উপর দিয়ে অন্য একটি গাড়ি চলে যায়। এদিকে রিয়াজের মা জ্যোৎস্না রাস্তার বাঁদিকে পড়ে গুরুতর জখম হন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা সিরাজ, রিয়াজ ও রিয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর অবস্থায় জ্যোৎস্নাকে প্রথমে ভর্তি করানো হয় ওই হাসপাতালে। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতার এসএসকে হাসপাতালে। তাঁর অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলেই জানা গিয়েছে। ঘটনায় দুই পরিবারেই শোকের ছায়া। মৃতগুলি পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
