shono
Advertisement

রেশন দিতে না পারলেও অনেকে ভাষণে দড়, অমিতকে কটাক্ষ মমতার

তাঁর প্রশ্ন, বাংলা যদি কৃষিতে পিছিয়েই থাকবে, তাহলে ২০১১ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর খোদ ভারত সরকার বাংলাকে কৃষি সম্মান দিল কী করে?
Posted: 04:14 PM Apr 26, 2017Updated: 11:59 AM Apr 26, 2017

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতায় পা রেখেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ রীতিমতো তথ্য-প্রমাণ দিয়ে জাতীয় স্তরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলার অবনমনের ছবি তুলে ধরেছিলেন তিনি৷ তার একদফা জবাব দিয়েছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ এদিন আলিপুরদুয়ার থেকে তথ্য-প্রমাণ দিয়েই অমিত শাহের বক্তব্যকে খণ্ডন করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

Advertisement

বাবরি কাণ্ডে অভিযুক্তরা কি পদত্যাগ করছেন, অমিতকে পাল্টা কটাক্ষ পার্থর  ]

শহরের প্রেস ক্লাবে কাগজপত্র বের করে অমিত জানিয়েছিলেন, কৃষি থেকে উৎপাদন,- বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বাড়ানো সত্ত্বেও পিছিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ৷ এমনকী কৃষিতেও অগ্রগতি নেই৷ এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, যে সমস্ত রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আছে সেখানে কৃষকদের অবস্থা ভাল৷ বাংলার কৃষকদেরও হাল ফিরবে যদি ভাজপা ক্ষমতায় আসে৷ এদিন আলিপুরদুয়ারে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে থেকে তার পাল্টা জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ যে তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানো হয়েছে, সেই তথ্য দিয়েই তিনি নস্যাৎ করলেন সমস্ত অভিযোগ৷ জানালেন কৃষিতে বৃদ্ধির হার সারা ভারতে যখন ১ শতাংশ, তখন পশ্চিমবঙ্গে সেই হার ৬ শতাংশ৷ ইন্ডাস্ট্রি গ্রোথ ভারতে যখন ৭ শতাংশ, তখন বাংলায় ১০ শতাংশ৷ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, তাহলে কে এগিয়ে? তিনি জানান, মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও তিনি দেন না৷ উল্টোপাল্টা দাবিও করেন না৷ তথ্যের ভিত্তিতে কেউ যদি প্রমাণ করতে বাংলা পিছিয়ে আছে, তাহলে তিনি তাঁর কান কেটে ফেলতেও রাজি৷ তাঁর প্রশ্ন, বাংলা যদি কৃষিতে পিছিয়েই থাকবে, তাহলে ২০১১ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর খোদ ভারত সরকার বাংলাকে কৃষি সম্মান দিল কী করে?

বিসর্জনের জন্যও আদালতের অনুমতি লাগছে কেন, প্রশ্ন অমিতের  ]

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ বারবারই এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এদিন তারই যৌক্তিকতা উড়িয়ে দিয়েছিলেন অমিত শাহ৷ বোঝাতে চেয়েছিলেন, কেন্দ্রের সদিচ্ছা থাকলেও বাংলা এগোতে পারছে না তৃণমূল সরকারের জন্যই৷ বাম জমানায় অবনতি তো হয়েছিল, এখন আরও হচ্ছে৷ বাংলার অরাজকতার পরিবেশ, এমনকী সাম্প্রদাযিক সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি৷ বাংলার ঘাড়ে চেপে থাকা ঋণের বোঝা নিয়েও খোঁচা দিয়েছিলেন৷ এদিন মমতার পাল্টা প্রশ্ন, এই ঋণ করা হয়েছিল বাম জমানায়৷ কেন্দ্র তার অনুমোদন দিয়েছিল কেন? সেই ঋণের টাকা শোধ করতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে৷ ঋণ শোধ করেও বাংলার উন্নয়ন করে চলেছেন তিনি৷ শিক্ষাশ্রী, সবুজসাথী প্রকল্পে সাইকেল দেওয়া থেকে শুরু করে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার কথা তুলে ধরে তাঁর প্রশ্ন, আর কোন রাজ্যে তা দেওয়া হয়৷ কেন উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলিকে বাঁচিয়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা করা হল না, প্রশ্ন মমতার৷ কেনইবা টি-বোর্ডকে কলকাতা থেকে সরিয়ে অসমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ তাঁর দাবি, অসমে যদি আর একটি টি-বোর্ড করা হত তাতে তাঁর আপত্তি থাকত না৷ কিন্তু বাংলাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে কেন? বাংলা কি ছাগলের তৃতীয় ছানা? পাশাপাশি গুজরাটে শিশুর অপুষ্টির খোঁচা দিয়ে তাঁর দাবি, কোন রাজ্যে কী উন্নয়ন হচ্ছে তার তুল্যমূল্য আলোচনা করলেই বোঝা যাবে, বাংলায় কী উন্নয়ন হচ্ছে৷

[ চার হাত এক হবে, যদি পাত্র হয় বামপন্থী… ]

তাঁর সরকার কাজে বিশ্বাস করে জানিয়ে মমতা বলেন, বাংলার উন্নয়নকে হিংসে করে বিজেপি৷ তাই অপপ্রচার চালাচ্ছে৷ তাঁর দাবি, তিনি কথায় বলেন না৷ কাজে করে দেখান৷ তাঁর তথ্য কথা বলে৷ বাংলাকে জ্ঞান দিয়ে কোনও লাভ জানিয়ে মমতা বলেন, বাংলার মাটি শক্ত মাটি৷ এখানে বাঘ দাঁত ফোটাতে এলেও তার দাঁত ভাঙবে৷ এমনকী ভাঙতে পরে বুকের পাঁজরও৷ বস্তুত অমিত শাহর সফরকে ঘিরে যে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে তাতেই নয়া মাত্রা যোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement