shono
Advertisement
Droupadi Murmu

'মমতা বোধহয় রাগ করেছেন', উত্তরবঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল বদলে আক্ষেপ 'বাংলার মেয়ে' মুর্মুর গলায়

শনিবার বিধাননগরের বদলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের অদূরে গোঁসাইপুরে আদিবাসীদের সভা স্থল নির্ধারিত হয়, সেই অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 02:34 PM Mar 07, 2026Updated: 04:44 PM Mar 07, 2026

বঙ্গে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক।শনিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্মেলনে আমন্ত্রিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিধাননগরের বদলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের অদূরে গোঁসাইপুরে সেই সভার স্থল নির্ধারিত হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে দেখা যায়, দর্শকের সংখ্যা অতি নগণ্য। আর তাতেই অসন্তুষ্ট হন রাষ্ট্রপতি। তা সত্ত্বেও সেখানকার অনুষ্ঠান সেরে ফেরার পথে বিধাননগরে আদিবাসীদের সমাবেশে যোগ দেন। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুর্মু বার্তা দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

Advertisement

রাষ্ট্রপতির কথায়, ''ওখানে (বিধাননগরে) অনুষ্ঠান হলে ভালো হতো। ওখানে অনেক জায়গা, অনেক মানুষ আসতে পারতেন। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন জানি না, এখানে সভার অনুমতি দেয়নি। এমন জায়গায় আজকের অনুষ্ঠান হচ্ছে, এখানে মানুষের আসা কঠিন। রাজ্য সরকার হয়তো আদিবাসীদের ভালো চায় না, তাই এখানে তাঁদের আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও। আপনার সকলে ভালো থাকবেন।'' 

রাষ্ট্রপতির কথায়, ''ওখানে (বিধাননগরে) অনুষ্ঠান হলে ভালো হতো। ওখানে অনেক জায়গা, অনেক মানুষ আসতে পারতেন। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন জানি না, এখানে সভার অনুমতি দেয়নি। এমন জায়গায় আজকের অনুষ্ঠান হচ্ছে, এখানে মানুষের আসা কঠিন। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও। আপনার সকলে ভালো থাকবেন।'' 

প্রতি বছর আদিবাসী সম্প্রদায়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত থাকেন তাঁদেরই প্রতিনিধি, দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এবছর শিলিগুড়ির বিধাননগরে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে। সেখানেই শনিবার যাওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধানের নিরাপত্তা ও অন্যান্য বেশ কিছু কারণে বিধাননগরে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই তাঁর জন্য বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভাস্থল নির্দিষ্ট করা হয়। শনিবার দুপুরে যখন সেখানে পৌঁছন রাষ্ট্রপতি মুর্মু, তখন সেখানে গুটিকয়েক মানুষ। এমনকী তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ছিলেন একমাত্র শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। প্রোটোকল অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য প্রশাসনের কোনও প্রতিনিধি অর্থাৎ কোনও মন্ত্রীকে থাকতে হয়। এক্ষেত্রে সেই প্রোটোকলও কিছুটা ভাঙা হয়েছে। এসবের জেরে যথেষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, গোঁসাইপুর বলেই এত কম লোক।

গোঁসাইপুরের অনুষ্ঠান সেরে দ্রৌপদী মুর্মু বিধাননগরে, যেখানে আদিবাসীদের সমাবেশ চলছে, সেখানে পৌঁছে যান। আর সেখান থেকেই রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মন্তব্য করেন 'মিতভাষী' মুর্মু। কেন তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রী এলেন না, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেন, ''মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি।'' সেইসঙ্গে বিধাননগরের বদলে তাঁর অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে গোঁসাইপুরকে নির্ধারিত করা নিয়ে মুর্মুর বক্তব্য, ''ওখানে যথেষ্ট জায়গা আছে, কোনও সমস্যা ছিল না। অনেক মানুষ আসতে পারতেন। গোঁসাইপুরে লোকজনের আসাটা কঠিন। জানি না, রাজ্য প্রশাসন কী ভেবে, কোন যুক্তিতে জায়গা বদল করে দিল।''

বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হতেই আসরে নেমেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। গৌতম দেবের প্রতিক্রিয়া, ‘‘প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন আমিই তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে যেতাম। কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি।'' বীরবাহা হাঁসদা বলেন, ‘‘বাংলা বরাবর অতিথি বৎসল। যেখানে থেকে যিনিই আসুন, তাঁকে আমরা সবসময়ে স্বাগত জানাই। মুখ্যমন্ত্রী নিজে সবাইকে স্বাগত জানান। আর তাছাড়া আদিবাসী উন্নয়ন ইস্যুতে কথা বলে লাভ নেই। এই বাংলায় আদিবাসীরা যা সুবিধা পায়, তা কোনও বিজেপি শাসিত রাজ্যে হয়নি এখনও।''

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement