অ্যান্টিবায়োটিক, প্রাণ বাঁচানো ওষুধ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকরি ওষুধ। তবে অনেক সময় কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লিভারে ফেলে বিরূপ প্রভাব। চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্য করছেন, কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে লিভারে বাড়ে এনজাইম। দেখা দেয় প্রদাহ। কিন্তু একই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকে কারও ক্ষতি বেশি, কারও কম— এর কারণ এতদিন পুরোপুরি পরিষ্কার ছিল না।
ছবি: সংগৃহীত
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গবেষণা চালায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বোম্বের গবেষকরা। তাঁদের কথায়, অ্যান্টিবায়োটিক কতটা শক্তিশালী তা নয়, বরং লিভার কোষের ঝিল্লির কোন জায়গায় ওষুধটি গিয়ে পৌঁছচ্ছে, সেটাই লিভারের ক্ষতির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
গবেষণায় দু'টি অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনা করা হয়—টাইকোপ্ল্যানিন (Teicoplanin) এবং ওরিটাভানসিন (Oritavancin)। এই দু'টি অ্যান্টিবায়োটিক গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে ব্যবহৃত হয় এবং কাজের ধরনও প্রায় একই। তবু লিভারের উপর এদের প্রভাব ভিন্ন।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ওরিটাভানসিন কোষের ঝিল্লির একটু ভেতরের দিকে প্রবেশ করে এবং কিছু পরিবর্তন ঘটালেও তা দীর্ঘ সময় ধরে কোষকে বিরক্ত করে না। ফলে লিভারের ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয়।
অন্যদিকে, টাইকোপ্ল্যানিন কোষ ঝিল্লির উপরিভাগে লেগে থাকে এবং অনেকক্ষণ সেখানে থাকে। এই দীর্ঘ সময় ধরে থাকা, কোষের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে লিভারে প্রদাহ ও ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
গবেষকেরা ইঁদুরের উপর পরীক্ষাতেও একই ধরনের ফল পেয়েছেন। টাইকোপ্ল্যানিন দেওয়া হলে লিভারের এনজাইম বেড়েছে এবং লিভারে প্রদাহের লক্ষণ দেখা গিয়েছে। কিন্তু ওরিটাভানসিনের ক্ষেত্রে সেই প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই গবেষণা ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কারণ কোন ওষুধ কোষঝিল্লির কোন অংশে গিয়ে পৌঁছচ্ছে, তা আগে থেকে জানা গেলে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি আগেভাগে বোঝা সম্ভব হবে। ফলে আরও নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি সহজ হবে।
এই দুই অ্যান্টিবায়োটিক মূলত গ্রাম-পজেটিভ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। যেমন গুরুতর নিউমোনিয়া, রক্তে সংক্রমণ, হৃদ্যন্ত্রের ভালভে সংক্রমণ বা ত্বক ও হাড়ের সংক্রমণে। সাধারণ সর্দি-কাশিতে এগুলো দেওয়া হয় না; সাধারণত গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রেই হাসপাতালে এ ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
