গোপ কুমার ভাস্করন, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, অ্যাক্সিস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ক্যাপিটাল মার্কেটে রিটেল ইনভেস্টরদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে আশাবাদী। 'আরও অনেক সুযোগ পাবেন ছোট বিনিয়োগকারী। ভারতের বাজারে নানা নতুন ধরনের প্রকল্প এবং পরিষেবা আসতে চলেছে', তিনি বললেন। শুনলেন নীলাঞ্জন দে। সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ।
আমরা সাম্প্রতিক অতীতে ইকু্যইটির বাজারে র্যালি দেখেছি। তারপর ভ্যালুয়েশন পড়েছে। আপনার অভিমত কী?
দেখুন, ভ্যালুয়েশন সব সময় পরিস্থিতির নিরিখে দেখা উচিত। ইকু্যইটির বাজারে অন্যতম চালিকাশক্তি হল কর্পোরেট আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা। লিকুইডিটি ও বিনিয়োগকারীর মনোভাবও এখানে উল্লেখ করা যায়। আমরা দেখেছি কীভাবে বিশেষ করে মিড ও স্মল ক্যাপ ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে কিছু রি-রেটিং দেখা গেছে। মনে রাখা দরকার যে একটা গোটা সেগমেন্টকে এইভাবে বিচার করা ঠিক হবে না। মিড ক্যাপের মধ্যেও ভ্যালুয়েশনে ফারাক দেখা যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্পোরেট সংস্থা ধারাবাহিকভাবে আয় বাড়িয়েছে, তাই তাদের ভ্যালুয়েশনে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। আবার কর্পোরেটের একাংশ ইনোভেশন বা সরকারি পলিসির উপর নির্ভর করে এগোচ্ছে। পেশাদার অ্যাসেট ম্যানেজার হিসাবে আমরা টেকসই বৃদ্ধিকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে চাই। এটাই অ্যাক্টিভ ম্যানেজমেন্টের কাজ।
মিডক্যাপের কথা জিজ্ঞাসা করি। ভ্যালুয়েশন নিয়ে নানা অভিমত আছে। আপনারা কী ভাবছেন?
ইনভেস্টররা অনেকেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। নতুন অ্যালোকেশনের সুযোগ আছে কি না তা ভেবে দেখছেন। অর্থনৈতিক বাড়বৃদ্ধির সময় মিডক্যাপ ভালো ফল দেয়, দেখা গেছে। তবে বাজারে যদি অস্থিরতা চলতে থাকে, কারেকশন বা সংশোধনও হয়। তাই বেশি রিটার্নের সম্ভাবনা যেমন থাকে, তেমনই ঝুঁকির ভারও বেশি থাকে। সেই জন্য আমরা বলি, সঠিক অ্যাসেট অ্যালোকেশনের কথা। এই বিষয়টি খুব জরুরি। ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বোঝা দরকার। আর বিনিয়োগের সময়সীমা (হোরাইজন) অনুযায়ী লগ্নি করতে হবে। বৈচিত্র্যময় অর্থাৎ ডাইভারসিফায়েড পোর্টফোলিওর অংশ হিসেবে মিডক্যাপ রাখা উচিত। হঠাৎ লাভের পাওয়ার আশা বার বার করা ঠিক নয়।
এসআইপি-র মাধ্যমে খুচরো বিনিয়োগ তো বাড়ছে। ইনভেস্টরদের কী ধরনের চাহিদা আছে বলে মনে করেন?
আমরা বিশ্বাস করি যে ‘ম্যাচুরিটি’ ধাপে ধাপে বাড়ছে। এটা বেশ ভাল লক্ষণ। নিয়মিত বিনিয়োগের প্রবণতা রয়েছে দেখতে পাচ্ছি। তার মানে বাজারে ‘টাইম করা’ নিয়ে কিছু সংখ্যক ইনভেস্টর আর ভাবিত নন। এই পরিবর্তন বেশ ইতিবাচক, দীর্ঘমেয়াদের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বলে মানি। ধারাবাহিকতা পোর্টফোলিওকে শক্তপোক্ত করে তোলে।
নতুন বিনিয়োগকারী কী পথে এগোবেন?
আমাদের ধারনা যে, তরুণ (এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী) ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। আজকের ২০-৩০ বছর বয়সিদের কথা ধরুন। এঁদের এক বিরাট অংশ ডিজিটাল পন্থায় বিশ্বাসী। এঁরা আর্থিকভাবে সচেতনও বটে। সাধারণ ভারতীয়র লক্ষ্যও আজ বড়-মাপের। আর্থিক স্বাধীনতা তো থাকতেই হবে। এর সঙ্গে চাই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। অথবা ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হওয়া। মিউচুয়াল ফান্ড এঁদের জন্য বিশেষ করে সহায়ক। আন্তর্জাতিক অথবা থিম্যাটিক কৌশল নিয়ে এই প্রসঙ্গে বলি। নতুন প্রজন্ম এই সব বৃহত্তর সুযোগে অংশ নিতে চান।
ইনভেস্টরদের কাছে আর কোনও মেসেজ পৌঁছে দেওয়া দরকার?
কিছু ক্ষেত্রে সহজ ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে। যেমন ধরুন ভোলাটিলিটি। বা রিস্ক-অ্যাডজাস্টেড রিটার্ন। এই জাতীয় ধারণা আরও সহজে বোঝাতে হবে। বিনিয়োগকারীদের কিছু ব্যাপার সোজাসুজি বলা দরকার। মানুষের জানা উচিত কেন স্মল ক্যাপ বিশ-পঁচিশ শতাংশ নেমে যেতে পারে। অস্থিরতা তো থাকতেই পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের যথেষ্ট দাম আছে।
আগামী বছর দশকে মিউচুয়াল ফান্ডের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে মনে হয়?
আমরা মনে করি যে, ভারতের সঞ্চয়ের আর্থিকীকরণ বা ফিনান্সিয়ালাইজেশন এখনও গোড়ার পর্যায়ে। মেট্রো শহরের বাইরে যান, দেখুন কত সম্ভাবনা রয়েছে! এই বিশাল দেশে কত ধরনের বৈচিত্র্য আছে। বাজারেও তাই। অ্যাক্টিভের পাশাপাশি প্যাসিভ স্ট্র্যাটেজি দেখা যাচ্ছে। অনেক নতুন কৌশল আসতে চলেছে। আজকাল লক্ষ্য-ভিত্তিক বিনিয়োগ করতে চান মানুষ। আরও স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণ পরিকাঠামো আসবে। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ সৃষ্টি করা দরকার, এই কথাটা সাধারণ মানুষ এখন জানেন। তা করা সম্ভব সঠিক অ্যাসেট অ্যালোকেশনের মাধ্যমে।
বিদেশে লগ্নির সুযোগ:
সাধারণ ভারতীয় কীভাবে ফান্ডের মাধ্যমে বিদেশের বাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন?
আজকাল ইনভেস্টররা দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে আমেরিকা, ইউরোপ বা এশিয়ার অন্য মার্কেটেও লগ্নি করতে চাইছেন। অ্যাক্সিস মিউচুয়াল ফান্ডের কাছে আমরা কিছু বিশেষ প্রকল্পের সন্ধান পেলাম।
বর্তমানে ‘ফান্ড বাস্কেট’ থেকে কোনগুলি বেছে নিতে পারেন ইনভেস্টররা?
কয়েকটি এদেশীয় ফান্ডের মধ্যে গ্লোবাল স্টক আছে।
১. Axis Large & Mid Cap Fund: বর্তমান বিদেশি বিনিয়োগ এক্সপোজার: প্রায় ৬.৪%
২. Axis Innovation Fund: বর্তমান বিদেশি বিনিয়োগ এক্সপোজার: প্রায় ১৩.৮%
এর সঙ্গে উল্লেখ করা যায় কিছু গ্লোবাল ফিডার ফান্ড। এগুলো FOF বা ‘ফান্ড অফ ফান্ড’ গোত্রের।
ক) Axis Global Equity Alpha FOF
বিশ্ব বাজারে যে সব কোম্পানি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি প্রফিট
করতে পারে (‘positive earnings surprise’), সেই সব সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়।
খ) Axis Global Innovation FOF
এখানে AI ও Green Economy-র মতো থিমে বিনিয়োগ করেন পরিচালকরা। ‘ইনোভেশন’ এখানে বিশেষ ভাবে লক্ষ্যণীয়।
গ) Axis Greater China Equity FOF
চিন, হংকং এবং তাইওয়ানের বাজারে লগ্নি করা হয়।
কেন গ্লোবাল বিনিয়োগ করবেন ভারতের রিটেল বিনিয়োগকারী?
এক, সকলেই নানা ধরনের “sunrise” সেক্টরে প্রবেশাধিকার চান। তা বিশ্ব বাজারে সম্ভব।
দুই, এমন অনেক আন্তর্জাতিক সেক্টর (ও বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড) আছে, যেগুলি এখনও ভারতীয় শেয়ার মার্কেটে তালিকাভুক্ত নয়।
উদাহরণ হিসাবে বড় মাপের পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর বা বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স লজিস্টিক সংস্থাগুলোর কথা বলা যেতে পারে।
তিন, দেশের বাইরে গেলে ঝুঁকি কমানো (Risk Mitigation) যাবে। সব টাকা ভারতে বিনিয়োগ করার দরকার নেই, এমন বলেন পেশাদারদের একাংশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে ভাল সুযোগ আসতে পারে আগামী দিনে।
এই প্রসঙ্গে অ্যাক্সিসের সঙ্গে বিদেশি হাউস Schroders Investment Management-এর টাই-আপ নিয়ে বলা যায়। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলে এই বিষয় নিয়ে আলাদা ভাবে জেনে নিতে পারেন।
