মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা সত্ত্বেও ডিম-থেরাপি অব্যাহত! ক্ষুব্ধ জনতার ডিম হামলা থেকে কিছুতেই ছাড় পাচ্ছেন না তৃণমূলের 'দুর্নীতিবাজ' নেতারা। এবার হুগলির বৈঁচিপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মায়াবতী কর্মকারের উপর ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠল একদল জনতার বিরুদ্ধে। তাঁদের ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনা ঘিরে হইহই কাণ্ড হুগলির সিঙ্গুরে। ডিম হামলা থেকে বাঁচলেন না পঞ্চায়েতের উপপ্রধানও। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দু'জনকে জনতার রোষ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এনিয়ে এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।
সিঙ্গুর বিধানসভার বৈঁচিপোতায় তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মায়াবতী কর্মকার ও উপপ্রধান নবকুমার বাগ। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকারি প্রকল্প থেকে কাটমানি নেওয়া এবং পঞ্চায়েতে কাজের হিসাবের গরমিলের। তাই মঙ্গলবার তাঁদের পঞ্চায়েত অফিসের সামনে মহিলা প্রধান ও উপপ্রধানকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল ক্ষুব্ধ জনতার বিরুদ্ধে। মায়াবতীকে বসিয়ে রীতিমতো তাঁর মাথায় ডিম ছোড়া হয়। শুধু তাই নয়, উত্তেজিত মহিলারা তাঁকে মাটিতে ফেলে জুতোপেটা করে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দেন বলেও অভিযোগ। একা মায়াবতী নন, একইরকম ডিম হামলার শিকার হতে হল উপপ্রধান নবকুমার বাগকেও।
ডিম-হামলার শিকার পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নবকুমার বাগও, নিজস্ব ছবি
জনরোষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সিঙ্গুর থানার পুলিশ। আক্রান্ত মহিলা প্রধান ও উপপ্রধানকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে সিঙ্গুর থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপির পক্ষ থেকে পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে এভাবে সর্বত্র ডিম হামলা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘ডিম ছোড়া বাংলার সংস্কৃতি নয়। আমি এগুলো সমর্থন করি না।'' রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বারবার এধরনের হামলার নিন্দা করেছেন। তা সত্ত্বেও এসব চলছেই।
