তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: মুড়ি খেতে গিয়ে গলায় আটকে গিয়েছিল ৩ সেন্টিমিটার লম্বা একটি তার! প্রথমে তা বোঝা যায়নি। কিন্তু কয়েকঘণ্টা পর থেকে গলায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন উত্তর দিনাজপুরের (North Dinajpur) চোপড়ার লক্ষ্ণীপুর গ্রামের মহিলা আকলামি খাতুন। তাঁকে ইসলামপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে সঙ্গে সঙ্গে বিহারের কিষাণগঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেও পরিকাঠামোগত সমস্যা থাকায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শেষমেশ সেখানকার ইএনটি (ENT) বিভাগের চিকিৎসকরা বিরল ও ঝুঁকির অপারেশনে তাঁর গলা থেকে ওই তার বের করে কার্যত নবজীবন দান করলেন।
গত ১৪ আগস্ট, উত্তর দিনাজপুরের লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা বছর পঞ্চান্নর আকলামি খাতুন মুড়ি খাচ্ছিলেন মাংস দিয়ে। মুড়ির মধ্যে থাকা ৩ সেন্টিমিটারের একটি তার গলায় ঢুকে যায়। তিনি অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। প্রাথমিকভাবে সকলে মনে করেছিলেন, মাংসের হাড় ঢুকেছে। ঘরোয়া কয়েকটি টোটকা প্রথমে প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু রাতে বিষয়টি গুরুতর আকার নেয়। তখন তাঁকে ইসলামপুর (Islampur) জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা বিহারের কিষাণগঞ্জে পাঠান তাঁকে। সেখানকার চিকিৎসকরাও ব্যর্থ হন। স্থানান্তরিত করা হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে।
[আরও পড়ুন: ‘প্রজাপতি’ বিতর্ক অতীত, সিনেমা হিট করাতে ‘দেব-মিঠুন’ ম্যাজিকই অস্ত্র? নতুন প্ল্যান সোহমের]
গত ১৬ তারিখ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের (North Bengal Medical College) ইএনটি বিভাগে ভরতি করা হয় তাঁকে। বৃহস্পতিবার সকালে বিভাগী প্রধান চিকিৎসক রাধেশ্যাম মাহাতো ও তাঁর টিম ১ ঘণ্টার অপারেশনের মধ্যে দিয়ে খাদ্যনালী ভেদ করে ভিতরে ঢোকা তারটি বের করতে সক্ষম হন। তাঁরা জানিয়েছেন, আপাতত সুস্থই রয়েছেন তিনি। ইএনটি প্রধান রাধেশ্যাম মাহাতো জানান, এ ধরনের ঘটনায় একটা নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হয়ে গেলে প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারত। রোগী আকলামি খাতুন সুস্থই রয়েছেন, তবে আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি।