টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় বাপের বাড়িতে আশ্রয়। কিন্তু সৎ মায়ের সঙ্গে ঝামেলা, পারিবারিক অশান্তির কারণে বাবার হাতে খুন তরুণী! ডিসেম্বর মাসের ১৪ তারিখ নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। বছরের শেষ দিন জঙ্গলের ভিতরের একটি কুয়ো থেকে উদ্ধার তরুণীর পচাগলা দেহ। মেয়ের মাথা থেঁতলে খুনের পর দেহ লোপাটের অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবা।
নৃশংস ঘটনাটি বাঁকুড়ার (Bankura)। মৃতার নাম ভবানী মাল। বয়স ২২ বছর। তিনি বাঁকুড়ার সদর থানার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। ভবানীর বাবা ঈশান মালের দুই বিয়ে। তরুণী প্রথম পক্ষের সন্তান। বছর দুয়েক আগে ভবানীর বিয়ে হয় বিকনা গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় তিনমাস আগে বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। সমস্যার সূত্রপাত্র সেখানেই!
শ্যামপুর গ্রামের বাড়িতে ঈশান মাল তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। ভবানীর সঙ্গে সৎ মায়ের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত তিক্ত। রান্না, সংসারের খুঁটিনাটি বিষয় থেকে শুরু করে নিত্যদিনের কথা কাটাকাটি—প্রায় প্রতিদিনই অশান্তি লেগে থাকত বলে গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি। মাঝেমধ্যেই সেই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তেন ঈশানও।
সংসারের বোঝা হতে চাননি ভবানী। হেলনা ও শুশুনিয়া এলাকায় একাধিক বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে নিজের খরচ নিজেই চালাতেন। তবু ঘরের অশান্তি কমেনি।
এই আবহেই ১৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়ে যান ভবানী। পরিবারের তরফে প্রথম দিকে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। নিখোঁজের প্রায় ১৩ দিন পর, ২৭ ডিসেম্বর বাঁকুড়া সদর থানায় মেয়ের নিখোঁজ ডায়েরি করেন বাবা ঈশান মাল। এরপর ৩১ তারিখ ওন্দা থানার দিগশুলির জঙ্গলে একটি আমবাগানের কুয়ো থেকে পচাগন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। তদন্তকারীরা বস্তাবন্দি পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। পরে পোশাক ও অন্যান্য চিহ্ন দেখে দেহ শনাক্ত করা হয়। আটক করা হয় ঈশানকে।
পুলিশ সূত্রে দাবি, জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করেছেন ঈশান মাল। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, সৎ মায়ের সঙ্গে ভবানীর তীব্র অশান্তির মধ্যেই রাগের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে মেয়েকে খুন করেছেন তিনি। পরে দেহ বস্তায় ভরে গভীর রাতে স্থানীয় আমবাগানের কুয়োতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
