বিক্রম রায়, কোচবিহার: এসআইআর নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। চলছে জোর কাটাছেঁড়া। তারই মাঝে এসআইআর শুনানিতে ডেকে রাজবংশীদের হেনস্তার অভিযোগ। সে কথা উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের। বিজেপির প্রতিনিধি হয়ে এসআইআরের বিরোধিতায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।
এসআইআর নিয়ে দিনকয়েক আগে মুখ খোলেন। যাঁদের তালিকায় নাম নেই, তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেকথা শুনে রে রে করে উঠেছিলেন অনেকেই। এসআইআর আবহে যেখানে বহু মানুষ যথেষ্ট চিন্তিত, সেখানে কীভাবে একজন জনপ্রতিনিধি এহেন মন্তব্য করতে পারেন, সে প্রশ্ন উঠতে থাকে। তার রেশ কাটতে না কাটাতেই ফের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। সেকথা বলে কটাক্ষেরও শিকার হন তিনি। এবার ফের দলের এসআইআর অস্বস্তি বাড়ালেন অনন্ত মহারাজ।
চলতি বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসআইআর করা হচ্ছে বলে একাধিকবার দাবি করেছে রাজ্যের শাসক শিবির তৃণমূল। এসআইআর শুনানি নিয়েও খড়্গহস্ত তারা। আদতে শুনানির নামে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ ঘাসফুল শিবিরের। যদিও বিজেপি সে দাবি নস্যাৎ করেছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে 'ভূতুড়ে' ভোটারদের তাড়াতেই নাকি এসআইআর। আর এসআইআর শুনানিতে হেনস্তার কোনও প্রশ্ন ওঠে না বলেই মত। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্য় বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে এর আগে বলতে শোনা গিয়েছে ভোট দিতে যেতে কোনও অসুবিধা না হলে এসআইআর শুনানিতে যেতেও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। দলের মতাদর্শ থেকে সরে তাই অনন্ত মহারাজের এহেন দাবি যে বিজেপির কাছে যথেষ্ট অস্বস্তিকর সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
